বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

আলো ফেলে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ চালু ও বন্ধ করার পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য তিন বিজ্ঞানী চিকিৎসায় নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন জার্মানির পিটার হেগেম্যান ও গেয়র্গ নাগেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ।
তাদের গবেষণার এ পদ্ধতির নাম অপটোজেনেটিক্স।
নোবেল কমিটি সোমবার, ৫ অক্টোবর সুইডেনের স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিক্স-সংক্রান্ত আবিষ্কারের জন্য তাঁদের বেছে নিয়েছে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের নোবেল সপ্তাহ শুরু হলো।
এবারের পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা। বিজয়ী একাধিক হলে এ অর্থ ভাগ হয়। হেগেম্যান কাজ করেন বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে, আর নাগেল ভুর্ৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
অপটোজেনেটিক্স কী
ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের বিবৃতি অনুযায়ী, অপটোজেনেটিক্স এমন একটি পদ্ধতি, যাতে আলো দিয়ে স্নায়ুকোষের সংকেত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। জীবিত মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ গড়ে তোলে, এ পদ্ধতিতে তা দেখা সম্ভব।
শৈবাল থেকে মস্তিষ্ক
একটি এককোষী শৈবাল কীভাবে আলোর দিকে সাঁতার কাটে, তা জানতে চেয়েছিলেন হেগেম্যান। ২০০০-এর দশকের গোড়ায় তিনি ও নাগেল শৈবালের কোষের পৃষ্ঠে চ্যানেলরোডপসিন নামের একটি প্রোটিন শনাক্ত করেন। নীল আলো পড়লে ওই প্রোটিনের ভেতর দিয়ে একটি পথ খুলে যায়। তখন আধানযুক্ত আয়ন কোষে ঢোকে এবং বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয়।
ডেইসেরথ ওই প্রোটিনের জিন র্যাটের স্নায়ুকোষে বসান। নীল আলো ফেলে তিনি স্নায়ুকোষে সংকেত তৈরি করতে সক্ষম হন। এ সাফল্যের কথা তিনি ২০০৫ সালে প্রকাশ করেন। দুই বছর পর জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও তিনি পদ্ধতিটি কার্যকর করে দেখান।
চিকিৎসায় সম্ভাবনা
এ পদ্ধতিতে গবেষকেরা স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুপথ শনাক্ত করেছেন। এসব স্নায়ুপথ স্নায়বিক ও মানসিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টায়ও পদ্ধতিটি ব্যবহার হচ্ছে।
নোবেল কমিটির চেয়ার পার স্ভেনিংসন মন্তব্য করেছেন, মস্তিষ্কের মানচিত্র তৈরির যে সুযোগ আগে কেবল কল্পনায় ছিল, অপটোজেনেটিক্স তা বাস্তবে এনে দিচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন