Advertise top
বাংলাদেশ

বরিশালসহ আট বিভাগে আসছে মডেল খাল

বরিশাল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম    

বরিশালসহ আট বিভাগে আসছে মডেল খাল
খালপাড়ে বনায়ন, হাঁস পালন ও সবজি চাষ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রতীকী।

বরিশালসহ আট বিভাগের ২০টি খালে ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করছে সরকার।

 

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ধারণাপত্রের বরাতে এ খবর দিয়েছে। পুনঃখননের পর খালগুলো শুধু পানি সরানোর কাজে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পাড়ে বনায়ন, পানিতে হাঁস ও মাছ পালন এবং সবজি চাষের সুযোগও তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৯ নভেম্বর লালমনিরহাটে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন বলে ধারণাপত্রে উল্লেখ আছে।

 

প্রথম ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে তিনটি করে খাল নেওয়া হবে। রংপুর, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহে নেওয়া হবে দুটি করে। প্রতিটি খালের গড় দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটার ধরলে মোট ৬০ কিলোমিটার এই পরীক্ষার আওতায় আসবে। আগে খনন হয়েছে বলেই কোনো খাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে মডেল হিসেবে গণ্য হবে না।

 

জেলা থেকে আসা প্রস্তাব যাচাই হবে জিপিএস স্থানাঙ্ক, খতিয়ান, দখলের অবস্থা ও পানিপ্রবাহ দেখে। স্থানীয়দের চাষাবাদের উপযোগিতাও বিবেচনায় থাকবে। এরপরই চূড়ান্ত ২০টি খাল ঠিক হবে।

 

নদী ও খালের জালে ঘেরা বরিশাল অঞ্চলে এই কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়বে। তবে বিভাগের কোন জেলার কোন দুটি খাল বিবেচনায় আছে, বাসসের প্রতিবেদনে তা উল্লেখ নেই। বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

 

উপকারভোগী নেওয়া হবে স্থানীয় অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতাভুক্ত পরিবার থেকে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রতিবন্ধী সদস্য আছে, এমন দরিদ্র পরিবারও থাকবে। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে তালিকা হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৪০০ পরিবারকে যুক্ত করার হিসাব করা হয়েছে।

 

পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রেখে খালকে কয়েকটি জোনে ভাগ করা হবে। পাবলিক জোনে স্থানীয় মানুষ ও গবাদিপশুর গোসল এবং ঘরের কাজে পানি সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। গভীর অংশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শে নিয়ন্ত্রিতভাবে হাঁস পালন চলবে। নৌযান চলাচলের খালে থাকবে ন্যাভিগেশন চ্যানেল। দুই পাড়ে লাগানো হবে জলসহিষ্ণু ও ফলের গাছ, ঢালে মাচায় হবে মৌসুমি সবজি চাষ।

 

উপকারভোগীদের নিয়ে গড়া হবে সমবায়। সদস্যদের অন্তত ৫০ শতাংশ নারী হবেন। কোনো সমবায় বা পরিবার খাল কিংবা পাড়ের জমির স্থায়ী মালিকানা পাবে না। শুধু শর্তসাপেক্ষ ও হস্তান্তর-অযোগ্য ব্যবহারের অনুমতি মিলবে।

 

আলাদা কোনো বড় প্রকল্প ছাড়াই বিদ্যমান সরকারি কাঠামোয় কাজ হবে। বাস্তবায়নে থাকবে ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। প্রাথমিক বিনিয়োগ ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা। এটি ঘূর্ণায়মান তহবিল হিসেবে চলবে, স্থায়ী অনুদান বা ভর্তুকি হিসেবে নয়।

 

প্রথম দুই বছর সরকার অর্থ, উৎপাদন উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সেখ ফরিদ আহমেদ বাসসকে জানান, পরীক্ষামূলক পর্ব শেষে খালের উৎপাদন, আয় ও তৈরি হওয়া সম্পদের ওপর সমবায়ের স্থানীয় সদস্যদের সরাসরি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। পাইলট পর্যায়ের ১২ মাস শেষে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সারা দেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটিও থাকবে।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বাসসকে বলেন, খালপাড়ের মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হলে তারা নিজেরাই খাল রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। তিনি জানান, সরকারের চার মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন চলছে। এর মধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ভাগে সাত হাজার কিলোমিটার। গত অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্যমাত্রার ১২০০ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে।

 

ধারণাপত্র অনুযায়ী, পুনঃখননের পর তদারকির অভাবে খাল যেন আবার দখল, আবর্জনা ও পলিতে ভরাট না হয়, সেটাই এই উদ্যোগের একটি বড় উদ্দেশ্য। কর্মসূচি পরিচালিত হবে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা মেনে।

সূত্র: বাসস


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal