শরীফ হোসাইন, বরিশাল নিউজ, ভোলা
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

ভোলায় ২২ দিনের ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেরা ঋণ ও সংসারের চিন্তায় আছেন, চাল পাবেন নিবন্ধিতরাই।
ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে বুধবার, ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ সময় ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও বাজারজাত করাও নিষিদ্ধ।
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০। বাকি জেলেরা নিবন্ধনের আওতার বাইরে রয়েছেন। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে জেলার জেলের সংখ্যা দুই লাখের বেশি বলে জানা গেছে।
নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর থেকে চাল বিতরণ শুরু হবে। প্রতিবেদন তৈরির সময় অনিবন্ধিত জেলেদের জন্য আলাদা কোনো সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিবন্ধিতদের মধ্যেও সবাই চাল পাবেন না। দেলোয়ার হোসেন বলেন, বরাদ্দ কম থাকায় নিবন্ধিত হয়েও অন্তত ২৫ হাজার জেলে সরকারি খাদ্য সহায়তা পাবেন না।
জেলেরা জানান, এবার পুরো মৌসুমে নদীতে প্রত্যাশিত ইলিশ মেলেনি। সংসারের খরচের পাশাপাশি আড়তদারের দাদন ও এনজিওর ঋণ নিয়েও তাঁরা চিন্তিত। যাঁরা সরকারি চাল পান, তাঁদেরও এক সপ্তাহের বেশি সেই চালে সংসার চলে না। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময় ঋণের বোঝা আরও বাড়ে বলে জেলেদের ভাষ্য।
জেলে সফিজল মাঝি ও মালেক মাঝি বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকবে, তাই দ্রুত চাল বিতরণ দরকার। তাঁদের ভাষ্য, ধারদেনা করে চলতে গিয়ে অধিকাংশ জেলে দাদনের ফাঁদে আটকে গেছেন। তাই চালের পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনাও চান তাঁরা। প্রকৃত জেলেদের নামে বরাদ্দ করা খাদ্য সহায়তা দ্রুত বিতরণেরও দাবি জানান তাঁরা।
নিষেধাজ্ঞা ভাঙা দণ্ডনীয় অপরাধ। মেঘনার ৯০ কিলোমিটার ও তেঁতুলিয়ার ১০০ কিলোমিটার এলাকায় এটি প্রযোজ্য। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরলে কঠোর অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এর আগে কয়েক দিন ধরে মাছঘাটে মাইকিং ও ব্যানার টানিয়ে সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। মৎস্যজীবীদের নিয়ে সভা ও সেমিনারও হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন