বরিশাল নিউজ
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ইউনিট কমান্ডগুলোর উদ্যোগে সোমবার, ২ নভেম্বর অন্তত ১৬টি জেলায় কর্মসূচি হয়েছে। একই দাবিতে মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর বরগুনা ও গোপালগঞ্জে মানববন্ধন হয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি তুলেছেন। এর আগে পিরোজপুর ও চট্টগ্রামেও একই ঘটনার প্রতিবাদ হয়েছে।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর সকাল ১১টায় মানববন্ধন হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ইউনিট কমান্ড এর আয়োজন করে। প্রায় এক ঘণ্টার কর্মসূচিতে বামনা, পাথরঘাটা, বেতাগী, আমতলী ও তালতলীসহ বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।
জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক ইউসুফ আলী মৃধার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি এজেডএম সালেহ ফারুক। বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ সিকদারসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো দল বা ব্যক্তির সম্পদ নন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ইতিহাসের অংশ তারা। ঘটনায় কারা জড়িত এবং কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, নিরপেক্ষ তদন্তে তা বের করার দাবি জানান তারা।
গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর বেলা ১১টায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বানে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা কয়েকশ মুক্তিযোদ্ধা এতে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রাফিকুজ্জামান। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্যসচিব আকবর হোসেনসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, মৃত্যুর পর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ চান তারা।
জেলা শহরে সোমবার, ২ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কিশোরগঞ্জ জেলা কমান্ডের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে ১৩ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
বক্তাদের অভিযোগ, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জের ধরে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন। তারা জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল হয়।
রংপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কাছিরি বাজার জিরো পয়েন্টে সোমবার, ২ নভেম্বর দুপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। জানাজা, গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে জেলা ও মহানগর কমান্ডের ব্যানারে এ কর্মসূচি হয়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আনছার আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মহানগর কমিটির আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ। সাবেক কমান্ডার মনজুরুল ইসলাম ও পীরগাছা উপজেলা কমান্ডার ওয়াজেদ আলী সরকারসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।
নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ে সোমবার, ২ নভেম্বর দুপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদর উপজেলা কমান্ড এর আয়োজন করে।
জেলা কমান্ডের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা কমান্ডার এস এম নুরুজ্জামান নান্টু ও অধ্যাপক ওয়ালীউল ইসলাম। জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাদেকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য দেন।
ভোলা প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার, ২ নভেম্বর দুপুরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে মানববন্ধন হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এতে অংশ নেন।
কর্মসূচির আগে এক সভায় জেলা সংসদের সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম খান সব মুক্তিযোদ্ধাকে যোগ দিতে আহ্বান জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আমির হোসেন বাচ্চু, মোহাম্মদ সাদেক ও মাহফুজুর রহমানসহ আরও কয়েকজন।
টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার, ২ নভেম্বর দুপুরে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা কমান্ডের মুক্তিযোদ্ধারা এতে অংশ নেন।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল আজিজ চানখা ও সদস্যসচিব ভিপি হামিদসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য দেন। বক্তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
ফরিদপুরে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার, ২ নভেম্বর সকালে মানববন্ধন হয়েছে। শহরের মুজিব সড়কে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
জেলা ও নয়টি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দেন জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক এম এ সালাম লাল, যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদ পারভেজ ও সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম।
নড়াইলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সোমবার, ২ নভেম্বর সকাল ১১টায় এক ঘণ্টার মানববন্ধন হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নড়াইল জেলা ইউনিট কমান্ড এর আয়োজন করে।
কর্মসূচিতে ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. সহিদুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল হক ও সদস্যসচিব মীর মোখতার আলীসহ ১০০-র বেশি মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন মুক্তিযোদ্ধারা।
ঝালকাঠিতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে সোমবার, ২ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ঝালকাঠি কমান্ডের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।
বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর, জেলা কমান্ডার মোস্তফা কামাল মন্টু ও সদস্যসচিব সত্যবান সেনগুপ্ত। তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন।
সাতক্ষীরা শহরের পাকা পোলের ওপর সোমবার, ২ নভেম্বর সকাল ১১টায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। জেলা ইউনিট কমান্ডের আয়োজনে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন।
আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট মোস্তফা নুর আলম। বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জিসহ আরও কয়েকজন। গণফোরাম, জাসদ, সিপিবি ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারাও বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছে। তার ভাষ্য, এরই ধারাবাহিকতায় মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন মুসলমান কীভাবে আরেকজন মুসলমানের জানাজা ও দাফনে বাধা দিতে পারেন।
বক্তারা এ ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেন। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
বরিশাল নগরের বগুড়া রোডে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে সোমবার, ২ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। এ সময় একজন মুক্তিযোদ্ধা নেতা জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনকে সামাজিকভাবে বয়কটের ঘোষণা দেন।
পটুয়াখালী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সোমবার, ২ নভেম্বর সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। জেলা ইউনিট কমান্ডের সদস্য অতুল চন্দ্র দাশের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশ নেন।
বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান। কর্মসূচি শেষে তারা প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে সোমবার, ২ নভেম্বর বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধন করেছেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের রাজশাহী জেলা ইউনিট কমান্ড এর আয়োজন করে।
যশোরেও সোমবার, ২ নভেম্বর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন ও সমাবেশে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন। জেলা ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকুর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন মোশারফ হোসেন।
বক্তারা ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অসম্মান বলে মন্তব্য করেন। তাদের অভিযোগ, একটি মহল দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
গাইবান্ধায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। কর্মসূচিতে বক্তাদের অভিযোগ, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা জানাজা ও দাফন-কাফনে বাধা দিয়েছেন।
মেহেরপুরেও বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন।
পিরোজপুরে বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর বেলা ১১টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে মানববন্ধন হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদর উপজেলা কমান্ডের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আহমেদ শহিদুল হক বলেন, গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার ও দাফন থেকে বাধা দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না। তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
আহমেদ শহিদুল হকের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ফুল দিতে যান। সেখানে একটি দল তাদের বাধা দেয়, পুষ্পস্তবক কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা সেখান থেকে চলে আসেন।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র বলেন, তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ করার সুযোগ ছিল।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর দুপুরে ‘বিক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা-চট্টগ্রাম’ ব্যানারে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। বক্তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। আগামী ডিসেম্বরে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচির কথাও জানান তারা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় সোমবার, ২৬ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ করেন।
মানিক পশারীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। পিরোজপুর সদরের এই মুক্তিযোদ্ধা ২০০৯ সালের ১১ আগস্ট পিরোজপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন। আসামিদের একজন ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। পরে ওই মামলায় তিনি রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন।
আদালত সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর মানিক পশারীর বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তিনি প্রাণে বেঁচে পরিবারসহ চলে যান। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ২৪ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।
পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গার্ড অব অনারের প্রস্তুতি নেওয়া হলে জামায়াত-সমর্থিত কর্মীরা আপত্তি জানান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ লাইনে কঠোর নিরাপত্তায় তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় চিতলিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
জামায়াত বলেছে, তারা দাফনে বাধা দেয়নি। তবে গার্ড অব অনার দেওয়ায় তাদের আপত্তি ছিল।
এ ঘটনা ও মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা সনদসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ খতিয়ে দেখতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২৯ অক্টোবর একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধের সামিল বলে বিবৃতি দিয়েছেন ২৮ জন নাগরিক।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন