Advertise top
আদালত-অপরাধ

বরিশালে আদালতের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা

বরিশাল নিউজ

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম       

বরিশালে আদালত ভবন থেকে পড়ে কলেজ কোষাধ্যক্ষের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি থেকে মৃত নাজমুলের তৈরিকৃত স্কেচ। বরিশাল নিউজ ডটকম

বরিশাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার নাজমুল হক রিমন (৩২) আত্মহত্যা করেছেন।

 

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আদালত ভবনের পশ্চিম পাশ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

রিমন বরিশাল নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের ছেলে।

 

সরকারি মহিলা কলেজের হিসাবরক্ষক শেখ ফরিদ আহমেদ জানান, ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ সোমবার, ৫ অক্টোবর কলেজের অডিট সম্পন্ন হয়। অডিটে ক্যাশিয়ার হিসেবে ব্যাংকে তিন লাখ ৮৩ হাজার টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও ৩৮ হাজার টাকা জমা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় অডিট কমিটি আপত্তিসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং মামলা করার সুপারিশ করে। তবে ঘটনার সময় পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান হিসাবরক্ষক।

 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

ওসি বলেন, সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, নাজমুল হক রিমন নিজে থেকেই চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজে অন্যকারো উপস্থিতি দেখা যায়নি। তাছাড়া আদালতে প্রবেশ এবং ঝাঁপ দেওয়ার আগেপরে তার সঙ্গে কোনো কাগজপত্র বা ফাইল ছিল না।

 

ওসি বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি- ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রিমন বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে দায়িত্ব পালন করেন। তবে কী কারণে তিনি আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আদালতের দ্বিতীয় তলার হাজতখানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য মো. হানিফ বলেন, ‘হঠাৎ করে বাইরে থেকে একটা বিকট শব্দ পেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখতে পাই নিচে একজন পড়ে আছে। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় করা একটি মামলার বাদী ছিলেন রিমন। একই থানায় অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৫ সালে করা একটি মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। পারিবারিক বিষয় নিয়েও স্ত্রীর সঙ্গে একটি মামলা চলমান ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

তবে আদালত ভবন থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পেছনে এসব কারণ নাকি অন্য কোনো কারণ আছে সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আপাতত এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম।


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal