Advertise top
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ঢাবির শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেট থেকে সরানো হচ্ছে হাদির নামফলক

বরিশাল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম    

ঢাবির শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেট থেকে সরানো হচ্ছে হাদির নামফলক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক। সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা নামফলক সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। 

 

ঢাকার একাধিক গণমাধ্যমগুলো বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর দুইটার দিকে এ কাজ শুরু হয় বলে জানিয়েছে। সেখানে আবার ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখা নামফলক বসানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য বলছেন, এটি সিনেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হচ্ছে। তবে হল সংসদের ভিপি বলছেন, তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়নি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী গণমাধ্যমকে জানান, গত সিনেটে স্থাপনাগুলোর নাম আগের মতো রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর করা হচ্ছে।

 

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন, কিন্তু হল প্রশাসন প্রক্টর অফিসকে কিছু জানায়নি। তিনি ঘটনা পর্যবেক্ষণে প্রক্টরিয়াল টিম পাঠিয়েছেন। তাঁর ধারণা, হল প্রশাসন নিজ উদ্যোগে কাজটি করে থাকতে পারে।

 

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বলে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। ফোনে তিনি সাংবাদিকদের হল অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।

 

শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামফলক সরানোর ছবি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, অনেকে হলের সামনে এসে হল চিনতে বিভ্রান্ত হতেন। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, হল প্রশাসনের পক্ষ থেকেই নামটি সরানো হচ্ছে।

 

হল সংসদের ভিপি মো. মুসলিমুর রহমান বলেন, হল সংসদকে না জানিয়েই নাম সরানো হয়েছে। ফেসবুক থেকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাননি এবং প্রাধ্যক্ষকেও ফোনে পাননি বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, হল সংসদের অবস্থান শেখ মুজিবুর রহমানের নাম পরিবর্তনের পক্ষে। নতুন নাম ওসমান হাদির হোক বা অন্য কোনো ব্যক্তির, তাতে আপত্তি নেই। তিনি বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়েছেন।

 

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে মারা যান।

 

এরপর শিক্ষার্থীদের একাংশ হলের ফটকের নামফলক বদলে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লিখে দেন। ২০ ডিসেম্বর রাতে ক্রেন ব্যবহার করে এ কাজ করা হয়।

 

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সিন্ডিকেট সভায় নাম পরিবর্তনের সুপারিশ ওঠে। একই সভায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের সুপারিশও ছিল। সিন্ডিকেট তা অনুমোদন না করে সিদ্ধান্তের জন্য সিনেটে পাঠায়।

 

২৯ জুনের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রস্তাব অনুমোদন না করে সিন্ডিকেটে ফেরত পাঠানোর কথা জানান।

 

সিনেটের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই ধরনের বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে। উপ-উপাচার্য বলছেন, নাম আগের মতো রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে টিবিএসের প্রতিবেদন এবং হল সংসদের ভিপির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি সিন্ডিকেটে ফেরত গেছে এবং প্রক্রিয়া চলমান। নামফলক সরানোর সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন, তা নিয়েও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

 

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (বাংলা), স্টার নিউজ


 


মন্তব্য লিখুন


Ish Brand

সর্বশেষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal