Advertise top
আদালত-অপরাধ

ঢাকার ৬ স্থানে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ; বাসে আগুন

বরিশাল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ এএম    

ঢাকার ৬ স্থানে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ; বাসে আগুন
রাজধানীর কাফরুল থানার সামনে ফাঁকা একটি বাসে আগুন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার ছয়টি স্থানে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং একটি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ঘটা এসব ঘটনায় কে বা কারা জড়িত তা শনাক্তে কাজ চলছে।

 

এসব ঘটনার মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় বিস্ফোরণে ইবাদুর রহমান নামের একজন অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। একই দিন রাত ১০টার দিকে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে। 

 

কাফরুলে বাসে আগুন

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার গণমাধ্যমকে জানান, কাফরুল থানা–সংলগ্ন এলাকায় একটি ফাঁকা বাসে আগুন লাগার ঘটনা তিনি শুনেছেন এবং ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরে রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

যাত্রাবাড়ীতে পরপর বিস্ফোরণ

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরে কাছের যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যাতে অটোরিকশাচালক ইবাদুর রহমান আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, উড়ালসড়ক থেকে এসব ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

 

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু বলেন, প্রথমে থানার প্রধান ফটকের সামনে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণ কোথা থেকে ঘটানো হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

 

অন্যান্য স্থানের বিস্ফোরণ

রাজধানীর আরও পাঁচটি স্থানে শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে:

 

জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি

সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে একটি

সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায় একটি

রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে একটি

রাত নয়টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি

 

পুলিশ জানায়, আগারগাঁওয়ের ঘটনা বাদে বাকি স্থানগুলোতে উড়ালসড়কের ওপর থেকে নিচে ককটেল ছোড়া হয়েছে বলে তারা মনে করছে।

 

পুলিশের বক্তব্য

ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের কিছু ঘটনা ঘটেছে, তবে কারা এসব ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

 

প্রেক্ষাপট

পুলিশ জানায়, কিছুদিন ধরে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে আসছেন। গুলশানে গত ১১ সেপ্টেম্বর দলটির কয়েক শ নেতা–কর্মী জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল করেন এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। ওই ঘটনায় গুলশান ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল ছোড়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল জব্দ করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গুলশানের ওই মিছিলের পর সমালোচনার মুখে ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার ও ওসিকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এর এক সপ্তাহের মাথায় শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফের ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।

 

এ ছাড়া গত মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ের কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal