বরিশাল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭ এএম

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সোনি-আনহাল্টের নির্বাচনে চরম ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেয়ার্সের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) কয়েক দশকের মধ্যে দলটির সবচেয়ে বাজে ফলাফলের মুখোমুখি হয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এএফডি সামান্য পিছিয়ে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফলাফলের একটি স্ক্রিনশট নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন, যদিও কোনো মন্তব্য করেননি। ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলা লেসকিউর এই ফলাফলকে "অত্যন্ত উদ্বেগজনক সংকেত" বলে আখ্যা দেন, কারণ এটি ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া জনতুষ্টিবাদী ঢেউয়ের ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফলাফলের বিস্তারিত
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক সরকারি হিসাবে এএফডি পেয়েছে ৪৩.৮ শতাংশ ভোট, যেখানে সিডিইউ পেয়েছে মাত্র ১৭.২ শতাংশ। রাজ্যের ৮৩ আসনের পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৪২টি আসন; এএফডি পেয়েছে ৩৯টি আসন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে চরম ডানপন্থী দলের ক্ষমতার এত কাছাকাছি পৌঁছানোর ঘটনা এটিই প্রথম। এএফডির প্রধান প্রার্থী উলরিশ সিগমুন্ড ফলাফলকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, "আমরা যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, ঠিক তা-ই অর্জন করেছি।" দলের সহ-নেতা আলিস ওয়েইডেল ফলাফলটিকে "স্বপ্নের ফল" বলে উল্লেখ করেন।
এএফডি এই জয় পায় রবিবার, ছয় সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে।
সিডিইউ ও অন্যান্য দলের প্রতিক্রিয়া
চ্যান্সেলর মেয়ার্স নিজেকে "গভীরভাবে হতবাক" বলে বর্ণনা করে বলেন, এটি সিডিইউর জন্য বছরের পর বছর, এমনকি দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভারী পরাজয়। তবে তিনি হাল না ছাড়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানান বলে টাইম সাময়িকী জানিয়েছে। মেয়ার্সের দল সিডিইউসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জানিয়ে দিয়েছে, তারা এএফডির সঙ্গে সরকার গঠনে সহযোগিতা করবে না।
রাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সভেন শুলৎসে ফলাফল মেনে নিয়ে বলেন, "আমাদের এই ফলাফল নিয়েই এগোতে হবে।" অন্যদিকে আলিস ওয়েইডেল মূলধারার দলগুলোর এই সহযোগিতা-বিরোধী অবস্থানকে "গভীরভাবে গণতন্ত্রবিরোধী" বলে সমালোচনা করেন।
বাম-জাতীয়তাবাদী দল বুন্ডনিস সারা ভাগেনক্নেশট (বিএসডব্লিউ) পাঁচ শতাংশের সীমা অতিক্রম করে পরিষদে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফলাফলে অচলাবস্থা তৈরি হলে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল।
স্যাক্সোনি-আনহাল্ট রাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এএফডির আঞ্চলিক শাখাকে "নিশ্চিতভাবে ডানপন্থী উগ্রবাদী সংগঠন" হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল জানিয়েছে। তবে দলটি এই তকমাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।
টাইম সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এএফডি জাতীয় পর্যায়েও জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় দল, যেখানে তাদের সমর্থন প্রায় ২৭-২৮ শতাংশ। অন্যদিকে মেয়ার্সের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের জনপ্রিয়তা রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, বিশেষত অর্থনীতি চাঙা করতে ব্যর্থতার কারণে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করা হয়েছে, মেয়ার্সের হাতে সময় খুবই কম এবং কেন্দ্রপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে দ্রুত ফল দেখাতে হবে। মধ্যপন্থী দলগুলোর চরম ডানপন্থীদের সঙ্গে সহযোগিতা এড়িয়ে চলার নীতি এখন পর্যন্ত এএফডির উত্থান ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে ওই সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: Al Jazeera, CNN, TIME, The Globe and Mail
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন