বরিশাল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

নেপালের রাসুয়া জেলার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুই শ্রমিককে। ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও হড়পা বানের কবলে পড়ে তারা সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছিলেন গত ২৬ আগস্ট।
নেপাল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি যৌথ উদ্ধারকারী দল শুক্রবার, চার সেপ্টেম্বর সকালে তাদের জীবিত উদ্ধার করে ।
যাদের উদ্ধার করা হলো
নেপালি সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালায়ান টাইমস ও কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিকের নাম সঞ্জয় সাহ ও কবির মহারজন। নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, সাহ প্রকল্পের যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান এবং মহারজন যান্ত্রিক বিভাগের সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মহারজন হাত-পা নাড়াতে পারছেন না, তবে সাহর আঘাত গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রীর একজন সহকারী।
নেপালি সংবাদমাধ্যম খবরহাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুজনকেই হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে আনা হয় এবং ছাউনিতে অবস্থিত বীরেন্দ্র সামরিক হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে কারা ছিলেন
নেপাল সেনাবাহিনী ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে এই উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধার অভিযানে যুক্ত প্রকৌশলী ও আইনপ্রণেতা শ্রীরাম নেউপানে এর আগে ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছিল। তিনি লেখেন, উদ্ধারকারী দল ‘আতঙ্কিত হবেন না, আমরা উদ্ধার করছি’ বললে ভেতর থেকে ‘হ্যাঁ’ শব্দে সাড়া মেলে।
বিপর্যয়ের ব্যাপকতা
এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদক সমিতির হিসাবে ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কমপক্ষে ৫৫৭ জন শ্রমিক নিখোঁজ, যাদের মধ্যে প্রায় ১১৫ জন সুড়ঙ্গের ভেতরেই আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ত্রিশূলী নদীর ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ মিলিয়ে অন্তত ৯০০ জন আটকা পড়েছিলেন বলে কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীরা মনে করছেন।
চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে সীমান্তের ওপারে তিব্বতেও অতিরিক্ত ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের দুই পাশ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ১,২৬৮ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৪,৭৬২ জনে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: দ্য হিমালায়ান টাইমস, কাঠমান্ডু পোস্ট, সিনহুয়া, এবিসি
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন