মো. তারিকুল ইসলাম, বরিশাল নিউজ
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই সংক্রান্ত পরিভাষার তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে, আর সাধারণ পাঠকের জন্য তা অনুসরণ করা কঠিন হয়ে উঠছে। বরিশাল নিউজ ডটকম এই প্রতিবেদনে একত্র করেছি এআই দুনিয়ার প্রায় ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও তাদের সহজ ব্যাখ্যা। মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক আলোচিত কৌশল —সবকিছু এক জায়গায় পাওয়া যাবে এই নিবন্ধে।
এআই বিশ্বে নিয়মিত হালনাগাদ হওয়া শব্দকোষ এবং প্রযুক্তি বিষয়ক একাধিক গ্লোসারির তথ্য যাচাই করে এই তালিকা সাজানো হয়েছে।
মৌলিক ধারণা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই): মানুষের মতো চিন্তা, শেখা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কম্পিউটার সিস্টেমে তৈরি করার প্রযুক্তি।
মেশিন লার্নিং: উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিজে থেকে প্যাটার্ন শেখার সক্ষমতা, যার মাধ্যমে এআই উন্নত হয়।
ডিপ লার্নিং: বহু-স্তরবিশিষ্ট নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জটিল সম্পর্ক শনাক্ত করা মেশিন লার্নিংয়ের একটি শাখা।
নিউরাল নেটওয়ার্ক: মানব মস্তিষ্কের নিউরনের গঠন থেকে অনুপ্রাণিত বহু-স্তরের গাণিতিক কাঠামো, যা এআইয়ের ভিত্তি।
ট্রান্সফরমার: আধুনিক ভাষা মডেলের মূল স্থাপত্য, যা একসঙ্গে পুরো বাক্যের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে পারে।
অ্যাটেনশন মেকানিজম: কোন শব্দ কোন শব্দের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত, তা নির্ধারণের পদ্ধতি।
জেনারেটিভ এআই: লেখা, ছবি, শব্দ বা কোডের মতো নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম এআই প্রযুক্তি।
ফাউন্ডেশন মডেল: বিপুল উপাত্তে প্রশিক্ষিত বৃহৎ মডেল, যাকে ভিত্তি ধরে নানা নির্দিষ্ট কাজের জন্য নতুন মডেল তৈরি করা যায়।
ভাষা মডেল ও প্রশিক্ষণ
লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেল (এলএলএম): চ্যাটজিপিটি বা ক্লদের মতো সহকারীর পেছনের প্রযুক্তি, যা কোটি কোটি প্যারামিটার দিয়ে গঠিত।
টোকেন: লেখাকে ভাঙা ছোট ছোট অংশ, যার ভিত্তিতে মডেল ভাষা প্রক্রিয়া করে ও প্রতিষ্ঠানগুলো সেবার মূল্য নির্ধারণ করে।
টোকেন থ্রুপুট: একটি এআই সিস্টেম নির্দিষ্ট সময়ে কতটা টোকেন প্রক্রিয়া করতে পারে, তার পরিমাপ।
কনটেক্সট উইন্ডো: একবারে একটি মডেল যতটুকু লেখা মনে রেখে উত্তর দিতে পারে, তার সর্বোচ্চ সীমা।
এমবেডিং: শব্দ বা বাক্যকে সংখ্যায় রূপান্তর করার পদ্ধতি, যাতে কাছাকাছি অর্থের বিষয় গাণিতিকভাবে কাছাকাছি অবস্থান করে।
ওয়েট: প্রশিক্ষণের সময় নির্ধারিত সাংখ্যিক মান, যা উপাত্তের কোন বৈশিষ্ট্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা ঠিক করে।
ট্রেনিং: উপাত্ত থেকে প্যাটার্ন শেখানোর প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মডেল কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে শেখে।
ইনফারেন্স: প্রশিক্ষিত মডেল চালিয়ে নতুন উপাত্তের ভিত্তিতে উত্তর তৈরি করার প্রক্রিয়া।
ফাইন-টিউনিং: একটি সাধারণ মডেলকে নির্দিষ্ট কোনো কাজ বা খাতের জন্য বাড়তি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা।
ট্রান্সফার লার্নিং: এক কাজের জন্য শেখা জ্ঞান অন্য সম্পর্কিত কাজে পুনরায় কাজে লাগানোর কৌশল।
ডিস্টিলেশন: একটি বড় ‘শিক্ষক’ মডেলের আচরণ থেকে শিখিয়ে ছোট ও দ্রুত ‘ছাত্র’ মডেল তৈরির পদ্ধতি।
কোয়ান্টাইজেশন: মডেলের সংখ্যাসূচক মানগুলোকে ছোট আকারে রূপান্তর করে হালকা ও দ্রুতগতির করে তোলার কৌশল।
লোরা (LoRA): মূল মডেলের ওজন অপরিবর্তিত রেখে অল্প কিছু ছোট স্তর যুক্ত করে সাশ্রয়ীভাবে ফাইন-টিউনিং করার পদ্ধতি।
ভ্যালিডেশন লস: প্রশিক্ষণের সময় মডেল কতটা ভালো শিখছে তার একটি পরিমাপ, যা কম হলে ভালো।
ওভারফিটিং: মডেল প্রশিক্ষণ উপাত্ত এত বেশি মুখস্থ করে ফেলে যে নতুন পরিস্থিতিতে ভালো ফল দিতে ব্যর্থ হয়।
রিজনিং ও নিরাপত্তা
সাম্প্রতিক সময়ে ওপেনএআইয়ের অ্যাস্ট্রা মডেল ঘিরে আলোচনায় আসা কিছু শব্দও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
চেইন অব থট: কোনো সমস্যা ছোট ছোট ধাপে ভেঙে সমাধান করার পদ্ধতি, যা ফলাফলের নির্ভুলতা বাড়ায়।
রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং: সঠিক ফলের জন্য পুরস্কার দিয়ে এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পদ্ধতি।
আরএলএইচএফ (RLHF): মানুষের পছন্দ-অপছন্দের প্রতিক্রিয়া ব্যবহার করে মডেলের উত্তরকে আরও নিরাপদ ও সহায়ক করে তোলার কৌশল।
অস্বচ্ছ পুনরাবৃত্তি: মডেল একই প্রশ্ন ভাষায় ধাপে ধাপে না ভেবে অভ্যন্তরীণ স্তরে বারবার চালানোর কৌশল, যা পর্যবেক্ষণ কঠিন করে তোলে।
রিকারেন্ট ডেপথ: অস্বচ্ছ পুনরাবৃত্তিরই প্রকৌশলগত নাম, গণমাধ্যমে দুটি শব্দ প্রায় সমার্থকভাবে ব্যবহৃত হয়।
নিউরালিজ: এমন এক চরম পরিস্থিতির নাম, যেখানে মডেল সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব সাংখ্যিক ভাষায় চিন্তা করবে, মানুষের বোধগম্য ভাষায় নয়।
রিকারসিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট (আরএসআই): এআই মডেল মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেকে উন্নত করতে থাকার একটি ধারণা।
এলাইনমেন্ট: এআইয়ের আচরণ মানুষের মূল্যবোধ ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার প্রচেষ্টা।
রেড টিমিং: কোনো এআই মডেলের দুর্বলতা বা ঝুঁকি খুঁজে বের করতে ইচ্ছাকৃতভাবে সেটিকে চ্যালেঞ্জ করার পরীক্ষা পদ্ধতি।
এজেন্ট ও ব্যবহারিক টুলস
ডিজিটাল অ্যাপ্লায়েড ও প্রম্পট আর্কিটেক্টসের গ্লোসারি অনুযায়ী, এআই এজেন্ট নির্মাণে নিচের শব্দগুলো এখন মৌলিক বলে বিবেচিত হয়।
এআই এজেন্ট: চ্যাটবটের চেয়ে বেশি স্বাধীনভাবে একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম প্রযুক্তি।
কোডিং এজেন্ট: সফটওয়্যার কোড নিজে থেকে লেখা, পরীক্ষা ও সংশোধন করতে সক্ষম বিশেষায়িত এআই এজেন্ট।
মডেল কনটেক্সট প্রোটোকল (এমসিপি): এআই মডেলকে বাইরের অ্যাপ বা তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি উন্মুক্ত মানদণ্ড।
র্যাগ (RAG): উত্তর দেওয়ার আগে প্রাসঙ্গিক তথ্য খুঁজে এনে প্রম্পটে যুক্ত করার পদ্ধতি, যা উত্তরকে বাস্তবভিত্তিক রাখে।
ভেক্টর ডেটাবেজ: এমবেডিং আকারে তথ্য সংরক্ষণ করে অর্থগত মিল অনুযায়ী দ্রুত খোঁজার প্রযুক্তি।
প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং: কাঙ্ক্ষিত উত্তর পেতে এআইকে দেওয়া নির্দেশনা যথাসম্ভব স্পষ্ট ও নির্দিষ্টভাবে সাজানোর কৌশল।
জিরো-শট ও ফিউ-শট লার্নিং: কোনো উদাহরণ ছাড়াই বা মাত্র কয়েকটি উদাহরণ দেখেই মডেলের নতুন কাজ বুঝে নেওয়ার সক্ষমতা।
জেইলব্রেক: নিরাপত্তা বিধিনিষেধ এড়িয়ে এআই থেকে নিষিদ্ধ বা অনভিপ্রেত উত্তর বের করার চেষ্টা।
প্রম্পট ইনজেকশন: কোনো নথি বা ওয়েবসাইটে লুকানো নির্দেশনা দিয়ে এআই এজেন্টকে বিপথে চালিত করার আক্রমণ কৌশল।
গার্ডরেইল: এআই সিস্টেমকে ক্ষতিকর বা অনুপযুক্ত আচরণ থেকে বিরত রাখতে বসানো নিরাপত্তা সীমারেখা।
স্যান্ডবক্সিং: এআই এজেন্টকে একটি নিয়ন্ত্রিত, বিচ্ছিন্ন পরিবেশে চালানো, যাতে ভুল হলেও প্রকৃত সিস্টেমে ক্ষতি না হয়।
অবকাঠামো ও শিল্প-প্রবণতা
কম্পিউট: এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জিপিইউ, সিপিইউর মতো গণনাশক্তি।
প্যারালালাইজেশন: একসঙ্গে অনেক কাজ ভাগ করে দ্রুত সম্পন্ন করার কৌশল, যা এআই প্রশিক্ষণে অপরিহার্য।
মেমোরি ক্যাশ: বারবার একই গণনা না করে আগের ফল সংরক্ষণ রেখে উত্তরের গতি বাড়ানোর কৌশল।
র্যামাগেডন: এআই শিল্পের বিপুল চাহিদার কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক র্যাম চিপ সংকট।
ওপেন সোর্স ও ক্লোজড সোর্স: মডেলের কোড সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে বন্ধ রাখার দুই ভিন্ন কাঠামো।
এজিআই: এমন এআই, যা বেশিরভাগ কাজে গড়পড়তা মানুষের চেয়ে বেশি দক্ষ, যদিও এর সংজ্ঞা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
সুপারইন্টেলিজেন্স: এজিআইয়ের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে, প্রায় সব ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া এআইয়ের একটি অনুমিত ভবিষ্যৎ পর্যায়।
জিএএন (GAN): দুটি নিউরাল নেটওয়ার্ককে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী বানিয়ে বাস্তবসম্মত ছবি বা ভিডিও তৈরির কৌশল।
ডিফিউশন: উপাত্তে ধীরে ধীরে গোলমাল যোগ করে পরে তা উল্টো প্রক্রিয়ায় পুনরুদ্ধার শিখিয়ে ছবি বা গান তৈরির প্রযুক্তি।
মিক্সচার অফ এক্সপার্টস (এমওই): একটি বড় মডেলকে অনেক ছোট বিশেষজ্ঞ উপ-নেটওয়ার্কে ভাগ করে প্রতিটি কাজে শুধু প্রাসঙ্গিক অংশ সক্রিয় করার স্থাপত্য।
মাল্টিমোডাল এআই: লেখা, ছবি, শব্দ বা ভিডিও—একাধিক ধরনের তথ্য একসঙ্গে বুঝতে ও তৈরি করতে সক্ষম মডেল।
বেঞ্চমার্ক বা ইভাল: বিভিন্ন এআই মডেলের সক্ষমতা তুলনা করতে ব্যবহৃত মানসম্মত পরীক্ষা।
হ্যালুসিনেশন: এআই মডেলের ভুল বা বানানো তথ্যকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সত্য বলে উপস্থাপন করার প্রবণতা।
গ্রাউন্ডিং: এআইয়ের উত্তরকে যাচাইযোগ্য তথ্য বা উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত রেখে ভুল তথ্য কমানোর চর্চা।
কম্পিউটার ভিশন: ছবি বা ভিডিও থেকে অর্থ বোঝার সক্ষমতা দেয় এমন এআইয়ের একটি শাখা।
ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং (এনএলপি): মানুষের ভাষা বোঝা, বিশ্লেষণ ও তৈরি করার এআই প্রযুক্তি।
এপিআই এন্ডপয়েন্ট: একটি সফটওয়্যারকে অন্য প্রোগ্রাম বা এআই এজেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করার ‘বোতাম’, যা স্বয়ংক্রিয় কাজ সম্ভব করে।
কেন এই শব্দগুলো জানা জরুরি
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এআই নির্ভর স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্স ডেভেলপার ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিভাষাগুলোর সঙ্গে পরিচিত থাকলে বৈশ্বিক এআই আলোচনা, চাকরির বিজ্ঞাপন বা প্রশিক্ষণ কোর্স বোঝা সহজ হবে। প্রযুক্তির মতোই এই শব্দভান্ডারও নিয়মিত বদলাচ্ছে, তাই এই তালিকা সময়ে সময়ে হালনাগাদ করা হবে।
সূত্র: TechCrunch, ScriptByAI, Digital Applied, Prompt Architects
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন