Advertise top
বিদেশ

কিয়েভের কাছে রুশ হামলায় নিহত ৩৭

বরিশাল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ আগষ্ট ২০২৬, ০১:৩৭ এএম    

কিয়েভের কাছে রুশ হামলায় নিহত ৩৭
রুশ ড্রোন হামলায় বিস্ফোরণের পর, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে একটি বিধ্বস্ত গাড়ির দৃশ্য

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অদূরে বুচা জেলার মিলা গ্রামে একটি গোলাবারুদ গুদামে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, এটি চলতি বছরের যুদ্ধে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জনই ছিলেন প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের একটি পরিচর্যাকেন্দ্রের বাসিন্দা।

 

হামলার বিবরণ

কিয়েভের পশ্চিমে অবস্থিত মিলা গ্রামের গুদামে একটি চালকবিহীন যান আঘাত হানে শুক্রবার, ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে, মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে। হামলার পর সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা আশপাশের ডজনখানেক বাড়িঘর ও ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

 

কিয়েভ আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমে তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে ৩৪ জনই ছিলেন প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের একটি পরিচর্যাকেন্দ্রের বাসিন্দা। এপি জানায়, ৩৭০ জনের বেশি মানুষকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

হামলার পরপরই আল জাজিরা জানিয়েছিল, নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৭, যাদের মধ্যে ছিলেন দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও। পরে এপির প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়ানোর কথা জানানো হয়, এবং বলা হয়, চলতি বছরের দুই জুলাই কিয়েভে হওয়া হামলায় নিহত ৩০ জনের চেয়ে এবারের প্রাণহানি বেশি।

 

জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনাকে ভয়াবহ পরিস্থিতি বলে অভিহিত করে জানান, বাসিন্দাদের ঘরের এত কাছে বিস্ফোরক মজুত রাখাটাই চরম অবহেলার প্রমাণ। তিনি জানান, আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ মজুত রাখা আইনত নিষিদ্ধ, তাই এ ঘটনায় ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেৎস্কি এই ঘটনাকে চলতি মাসের শুরুতে কিয়েভের উপকণ্ঠ ভিশনেভেতে হওয়া আরেকটি গোলাবারুদ গুদামে হামলার সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে ২২ জন নিহত হয়েছিলেন। বারবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি অপরাধমূলক অবহেলার শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। দায়ী সবাইকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

 

রাশিয়ার দাবি

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, মিলার গুদামে দূরপাল্লার ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও লঞ্চ বুস্টার মজুত ছিল। মন্ত্রণালয়টি আরও জানায়, একই সময় মিকোলাইভ ও ইজমাইল বন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে, পাশাপাশি কিয়েভ অঞ্চলে ইউক্রেনের ফ্ল্যামিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ মজুতের একটি সরবরাহকেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

 

টানা তৃতীয় দিনের হামলা

এপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া রুশ ড্রোন হামলা কিয়েভে প্রায় বিরতিহীনভাবে চলছে, যা শনিবার, ২৯ আগস্ট পর্যন্ত তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই হামলার লক্ষ্য মূলত রাজধানীর প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করা, এমনটাই মনে করেন কিয়েভের কর্মকর্তারা।

 

খেরসনেও হতাহত

দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে হওয়া পৃথক এক হামলায় দুজন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানান আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেকসান্দর প্রোকুদিন। এই অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে রুশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন, পাশাপাশি আসন্ন শীতে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় হাজারো বাসিন্দাকে নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

ইউক্রেনের পাল্টা হামলা

এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার সামরিক শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৩০০টির বেশি দূরপাল্লার হামলা চালানো হচ্ছে, যা বাড়িয়ে দৈনিক এক হাজারে নিতে চায় কিয়েভ। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাতভর ৩১৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানান আঞ্চলিক গভর্নর ইউরি স্লিউসার। সূত্র:এপি, কিয়েভ পোস্ট


 


মন্তব্য লিখুন


Ish Brand

সর্বশেষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal