বরিশাল নিউজ
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

নগরীর নথুল্লাবাদ, রূপাতলী ও সিএন্ডবি রোডের সিএনজি স্টেশন মালিকেরা জানান, বেশির ভাগ স্টেশনে গ্যাস নেই। দু-একটিতে থাকলেও তা চাহিদার অর্ধেকেরও কম। এতে সিএনজিচালিত অনেক থ্রি-হুইলার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
স্টেশনে সংকট
স্টেশন মালিকদের ভাষ্য, যে গ্যাস আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০টি যানকে সেবা দেওয়া যাচ্ছে। কাউকেই ৩০০ টাকার বেশি গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না।
বিআরটিএ ও স্থানীয় সিএনজি মালিক সমিতির নেতারা জানান, বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় গ্যাসচালিত যানবাহন প্রায় ১৩ হাজার। এর মধ্যে তিন হাজারের বেশি সিএনজি ও অটোরিকশা। নিয়মিত গ্যাস না পাওয়ায় চালকদের দৈনিক আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স পেতেও ভোগান্তি হচ্ছে।
নগরীর সাগরদীর ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ ইনচার্জ মো. সোহাগ বলেন, তিন-চার দিন ধরে সংকট চলছে। প্রতিদিন ২০ হাজার লিটার গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে ১০ থেকে ১২ হাজার লিটার। সংকটের কারণ তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
রূপাতলীর লিলি ফিলিং স্টেশনের ম্যাজেনার মো. রিপন সিকদার বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে না পারায় তাঁরা বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।
সিএনজি চালক নাসিমুল ইসলাম বলেন, “সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরেও গ্যাস পাইনি।” সাগরদীর ডোস্ট পাম্পে দুই ঘণ্টা সিরিয়ালে থেকে তিনি গ্যাস পেয়েছেন, তবে ৩০০ টাকার বেশি মেলেনি। আরেক চালক মিলন হোসেন বলেন, এই অবস্থা চললে গাড়ি চালানো ও সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
সিলিন্ডারে বাড়তি দাম
নগরীর অধিকাংশ খুচরা দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার মিলছে না। যেসব দোকানে আছে, সেখানে দাম নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকার বেশি। গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। ফলে ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
ডিলারদের কাছ থেকে জানা গেছে, খুচরা পর্যায়ে সান গ্যাস ১ হাজার ৭০০ টাকা, আই গ্যাস ১ হাজার ৭২০ টাকা, ইউনিক ২ হাজার টাকা, ওমেরা ১ হাজার ৮০০ টাকা ও যমুনা ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর ওপর খুচরা ব্যবসায়ীরা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে।
এলপিজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো ডিলারদের চাহিদামতো গ্যাস দিতে পারছে না। এর সঙ্গে পাইকারি দাম বাড়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সান গ্যাসের বরিশালের ডিলার জুয়েল জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা বেড়েছে। আগে ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা, এখন ১ হাজার ৬৪০ টাকা।
বরিশাল পলিটেকনিক এলাকার গৃহবধূ ফারজানা ববি বলেন, রান্নার জন্য সিলিন্ডার ছাড়া উপায় নেই, তাই বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। তিনি জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকারের তদারকি চান।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে এলপিজি বিক্রির সুযোগ নেই। দ্রুত বাজার তদারকি চালানো হবে বলে তিনি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন