Advertise top
ভোলা

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন দ্রুত বাস্তবায়ন চায় মনপুরাবাসী 

বরিশাল নিউজ, ভোলা

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ পিএম    

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন দ্রুত বাস্তবায়ন চায় মনপুরাবাসী 
একনেকে প্রকল্প পাস হওয়ায় এটি দ্রুত বাস্তবায়নে অধীর মনপুরাবাসী। ছবি: বরিশাল নিউজ

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ১৮৩ কোটি চার লাখ টাকার প্রকল্প চুড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। এখন সেটির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় দ্বীপটির বাসিন্দারা।


 

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ‘মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পটির সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)।

 

এর আগে প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১৩০ কোটি ২২ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে ১৮৩ কোটি চার লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মূল প্রকল্পের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে ৫২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। যা মূল প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৪০ দশমিক ছয় শতাংশের সমান।

 

পরিকল্পনা কমিশন-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ওজোপাডিকো।

 

থাকছে ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবল ও ল্যান্ডিং স্টেশন : মনপুরার মতো নদীবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবল ও ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপন। এর মাধ্যমে মূল বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনপুরার সংযোগ ও বিতরণ অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দরপত্রেও মনপুরায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন কাজের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবল স্থাপনের পাশাপাশি ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ১১ কেভি এআইএস ইনডোর সুইচিং স্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি নকশা, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ ও কমিশনিংয়ের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে এসব অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

মনপুরা বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির মেয়াদ নতুন করে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

 

তিনি বরিশাল নিউজ ডটকমকে বলেন, যেহেতু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাজেট ও মেয়াদ বেড়েছে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আমরা কাজটা করব। আশা করি, এবার কাজটা আমরা শুরু করতে পারব। সরকারের সদিচ্ছা আছে বলেই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। মনপুরাবাসীকে শুধু আশ্বস্ত নয়, এবার একেবারে কাজ শুরু করেই আশ্বস্ত করতে চাই।

 

ভোলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মনপুরায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়ন দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। দ্বীপাঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণে রয়েছে বাড়তি চ্যালেঞ্জ।

নতুন প্রকল্পের আওতায় বিতরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন ও সুইচিং স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে উঠলে মনপুরার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

 

নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, মৎস্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর পাশাপাশি দ্বীপাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারবে মনপুরা।

 

তবে প্রকল্পের অনুমোদনই শেষ ধাপ নয়। ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবল ও ল্যান্ডিং স্টেশনসহ পুরো অবকাঠামো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ, মান নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী সময়ে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপরই প্রকল্পের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে।

 

তা/শহো/ভো


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal