বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

ইরানের সঙ্গে সাত মাস ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগনের একটি তদারকি প্রতিবেদন।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, এ নিয়ে তিনি "মোটেও উদ্বিগ্ন নন।"
সেন্টকম কমান্ডারের বক্তব্য
সিবিএস নিউজের অনুষ্ঠান "৬০ মিনিটস"-এ ১৩ সেপ্টেম্বর প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক নোরা ও'ডোনেলের প্রশ্নের জবাবে কুপার বলেন, "আমরা যথেষ্ট সশস্ত্র এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।" যুক্তরাষ্ট্র তার প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অর্ধেকের বেশি ব্যবহার করে ফেলেছে বলে সাংবাদিকের উল্লেখের পরও কুপার তার অবস্থানে অনড় থাকেন। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, কুপারই বর্তমানে ইরান অভিযানের তদারকি করছেন।
পরিদর্শক জেনারেলের প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র
কুপারের সাক্ষাৎকার প্রচারের একদিন পরই, ১৪ সেপ্টেম্বর পেন্টাগনের পরিদর্শক জেনারেল কংগ্রেসে তার প্রথম প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। "অপারেশন এপিক ফিউরি" নামের এই ইরান অভিযান নিয়ে করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক হারে গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে "কৌশলগত মজুদে ঘাটতি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সরবরাহ-বাধা" স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে ফ্রান্স ২৪ ও এবিসি নিউজ জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে এই অভিযানের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩৪০ কোটি ডলারে, যার মধ্যে ২২৩০ কোটি ডলার শুধু গোলাবারুদ খাতেই খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্স ২৪। বাকি অর্থের মধ্যে ৩৭০ কোটি ডলার সরঞ্জাম ক্ষতি এবং ৭৪০ কোটি ডলার অন্যান্য ব্যয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতে অন্তত চারটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, একটি এফ-৩৫ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। বাহরাইনে নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্যও এই প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মজুদ কমার হিসাব
সমরকৌশল বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রায় ২৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা জুলাই মাস নাগাদ নেমে আসে ৭৫৯ থেকে ৮২৭-এ। একইভাবে থাড ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ৪৫২ থেকে কমে দাঁড়ায় ২৩৪ থেকে ২৭৮-এ। সিএসআইএসের বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ-পূর্ব মজুদের পর্যায়ে ফিরতে সময় লাগতে পারে তিন বছর বা তারও বেশি — এমন এক সময়সীমা, যা চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য উত্তেজনার ঝুঁকিপূর্ণ পর্বের সঙ্গে মিলে যায় বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার অভিযোগ করেছেন, পেন্টাগনের গোলাবারুদ ত্বরান্বিতকরণ পরিষদ তহবিলের প্রায় ৯৭ শতাংশ ব্যয় করেছে উচ্চমূল্যের অত্যাধুনিক অস্ত্রে, আর মাত্র তিন শতাংশ গেছে তুলনামূলক সস্তা বিকল্পে।
উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ
ঘাটতি মোকাবিলায় পেন্টাগন গত মাসে নর্থরপ গ্রুম্যান, লকহিড মার্টিন ও জেনারেল ডায়নামিক্সের সঙ্গে থাড ও প্যাট্রিয়ট-সংশ্লিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে চুক্তি করেছে। লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, তারা বছরে থাড উৎপাদন প্রায় ৯৬ থেকে বাড়িয়ে ৪০০ ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বরাবরই বলে আসছেন, গোলাবারুদ সংকটের অভিযোগ সঠিক নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪ সেপ্টেম্বর তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ইতিহাসে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র এখন বেশি "অত্যাধুনিক ও শ্রেষ্ঠ মানের অস্ত্র" উৎপাদন করছে। এর আগে তিনি মজুদ কমার প্রতিবেদনগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনে ইরানে যুদ্ধের প্রথম দিকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্দেহভাজন মার্কিন হামলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছে সোফএক্স। সামরিক বাহিনী এখনো সে ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেনি।
সূত্র: ফ্রান্স২৪, এবিসি নিউজ, সিবিএস নিউজ, টাইমস অফ ইসরায়েল
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন