বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ এএম

পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় একটি লোকোমোটিভ ধ্বংস হয়েছে। যে ট্রেনে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রাউস ভ্রমণ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লোকোমোটিভ বা রেল ইঞ্জিন হলো এমন একটি স্ব-চালিত রেল বাহন, যা ট্রেনের বগিগুলোকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য বা ঠেলার জন্য শক্তি বা গতি সরবরাহ করে। এটি ট্রেনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
ইউক্রেনীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় যে ট্রেনের ইঞ্জিন ধ্বংস হয়েছে, তার লক্ষ্যবস্তু হতে পারতেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিআইএ প্রধান।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউরোপ থেকে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত রেল অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূটনীতিকদের বহনকারী একটি ট্রেন হামলার কিছুক্ষণ আগেই একই সীমান্ত পয়েন্ট পার হয়ে পোল্যান্ডে প্রবেশ করে।
ইউক্রেনের রেল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলে, রুশ হামলার লক্ষ্য ওই কূটনৈতিক ট্রেনও হতে পারে, যা হুমকির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে গিয়েছিল। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর দরজায় সরাসরি করা আঘাত বলে বর্ণনা করেন।
গার্ডিয়ান জানায়, রাতভর চালানো এই হামলায় সাড়ে চারশোর বেশি রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনজুড়ে ব্যবহার করা হয়। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, তারা ৪০৫টি ড্রোন ও চারটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও ৪০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
যাত্রীবাহী এক ট্রেনে থাকা একজন সংগঠক জানান, সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছালে যাত্রীদের দ্রুত ট্রেন থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়, এর আগে রাতের বেলাতেও দুই ঘণ্টা তাদের নামিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, সীমান্তের কয়েকশ মিটারের মধ্যে ড্রোনের শব্দ শোনা মোটেই স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা নয়।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেনে রুশ হামলা তীব্রতর হলে তা পোল্যান্ডের ভূখণ্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে। জরুরি বৈঠক শেষে তিনি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ রাশিয়ার পক্ষ থেকে তীব্র সামরিক তৎপরতার সময় হতে পারে। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ শিকোরস্কিও রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে উসকানিমূলক বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রুশ ডিজেল সরবরাহে হামলা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ তার ভাষায় এতে জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে।
লিথুয়ানিয়ায় ড্রোন শনাক্তের আশঙ্কায় সাময়িকভাবে ভিলনিয়াস বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছিল, পরে জানা যায় সেটি একঝাঁক পাখি ছিল। ন্যাটো সতর্কতা অবলম্বন করে একটি যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল, তবে ৪০ মিনিটের মধ্যেই বিমানবন্দর আবার চালু করা হয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন