বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ এএম

আয়ারল্যান্ডকে একীভুত করা বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের তিন দেশ ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে আগে থেকেই উস্কে আছে পরিস্থিতি।
এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রকে এক করার পক্ষে নিজের অবস্থান আবারও তুলে ধরেছেন। ট্রাম্প শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ড কাউন্টি ক্লেয়ারে নিজের মালিকানাধীন ডুনবেগ গলফ রিসোর্টে সফরে যান।
আয়ারল্যান্ড সফরের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রকে একত্র করাই স্বাভাবিক পরিণতি এবং তা এখনই হতে পারে। তার এই মন্তব্য আইরিশ সাগরের দুই পাশেই আলোচনার জন্ম দেয় বলে গার্ডিয়ান জানায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের গণভোট প্রশ্নে আপত্তির জবাবে তিনি বলেন, এমন কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায়।
সফর শেষ করার সময় ট্রাম্প আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টের বিজয়ী শেন লরিকে ট্রফি তুলে দেন এবং আইরিশ হুইস্কির ওপর থাকা শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, অনেকেই তাকে এই অনুরোধ করে আসছিলেন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই শুল্ক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় আইরিশ হুইস্কির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত ছিল, যা স্কচ ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের হুইস্কির তুলনায় আইরিশ প্রজাতন্ত্রের উৎপাদকদের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রাখছিল।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম এখনো মনে করেন উত্তর আয়ারল্যান্ডে একত্রীকরণ গণভোটের প্রয়োজনীয় সমর্থন নেই। দুই সপ্তাহ আগে বার্নহাম বলেছিলেন, গণভোট আপাতত বিবেচনার বাইরে।
আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী দলগুলো ট্রাম্পের মন্তব্যকে স্বাগত জানালেও রক্ষণশীল দল ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ইউনিয়নপন্থীরা এর সমালোচনা করেছে। আয়ারল্যান্ডের তাওসিচ (প্রধানমন্ত্রী) মিশেল মার্টিন বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে কিছুটা অতিপ্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে এবং সবাই বিষয়টিতে শান্ত দৃষ্টিভঙ্গি রাখলেই ভালো হয়।
সাবেক ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য ইয়ান পেইজলি জুনিয়র বলেন, প্রত্যেকেরই নিজস্ব মতামত রাখার অধিকার আছে, তা ভুল হলেও। তিনি বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা হলো এর জনগণ ব্রিটিশ এবং তারা তা-ই থাকতে চায়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আল জাজিরা
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন