Advertise top
শিক্ষা

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ

বরিশাল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম       

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ
লোগো- শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। বিতর্কের মুখে গত ৩ আগস্টের সেই রেজুলেশন বাতিল করে আগের পদ্ধতিই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

 

একই সঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রচলিত কাঠামোও বহাল থাকছে। অর্থাৎ, আগের মতো প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে নিবন্ধন সনদ অর্জন করতে হবে প্রার্থীদের। নিবন্ধন সনদধারীদের মধ্য থেকেই এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে।


মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে সভায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব হেলালুজ্জামান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় অংশ নেওয়া মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ও নিয়োগের আগের ব্যবস্থাই কার্যকর থাকবে। গত ৩ আগস্টের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই পরিপত্র জারি করা হবে।

 

যে সিদ্ধান্তে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক

এর আগে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সভার কার্যবিবরণী পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

 

কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এনটিআরসিএ কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে না।

 

এর ফলে এনটিআরসিএর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জনকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।

 

শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের বিক্ষোভ

রেজুলেশনের এসব সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরই দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেন।

 

রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও এর প্রতিবাদ জানানো হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ছাত্রশক্তি ও ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠন এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়।

 

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন হিসেবে পরিচিত এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রায় ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচির কথা বলা হয়েছিল।

 

এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক বিবৃতিতে জানান, সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও একটি রেজুলেশন হয়েছে ঠিকই, তবে সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে এবং পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

 

তবে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং কিংবা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগেই সরকার বিতর্কিত রেজুলেশন বাতিল করে আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

 

কেন্দ্রীয় নিয়োগেই আস্থা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা বহাল থাকল। এতে প্রার্থীদের সরাসরি ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির কাছে গিয়ে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, তা আপাতত দূর হলো।

 

ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ অর্জন করতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার সুযোগ অক্ষুণ্ন থাকবে। একই সঙ্গে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ৯ হাজার ৮৪২ প্রার্থীর নিয়োগ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আপাতত কেটে গেল।


 


মন্তব্য লিখুন


Ish Brand

সর্বশেষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal