Advertise top
শিক্ষা

উপাধ্যক্ষকের যোগদান ঠেকাতে বিএম কলেজে কলম বিরতি

বরিশাল নিউজ

প্রকাশ : ২৫ আগষ্ট ২০২৬, ০৭:০২ পিএম    

উপাধ্যক্ষকের যোগদান ঠেকাতে বিএম কলেজে কলম বিরতি
সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সামনে কলম বিরতি কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষকরা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট।-ছবি: বরিশাল নিউজ

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে নবনিযুক্ত উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের যোগদান ঠেকাতে এক ঘণ্টার কলম বিরতি পালন করেছেন কলেজের ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকরা। তাদের দাবি ১০ শতাংশ কোটায় নিয়োগ পাওয়া এই শিক্ষকের নিযুক্তি অন্যায্য। কলেজ ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালিত হয় ।

 

উপাধ্যক্ষকে ঠেকাতে যা ঘটেছে

এর আগের দিন সোমবার, ২৪ আগস্ট অবস্থান কর্মসূচি শেষে কলম বিরতির এই ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাওয়ার পর পাঁচ দিনেও দায়িত্বে যোগ দিতে পারেননি অধ্যাপক আজাদ, যার নিয়োগ হয় ১৯ আগস্ট। কয়েক দফা যোগদানের চেষ্টা করলেও শিক্ষকদের তোপের মুখে পড়ে ফিরে যেতে হয় তাকে।

 

কলেজটিতে বর্তমানে কর্মরত আছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৬৯ জন কর্মকর্তা, ১০ শতাংশ কোটায় নিযুক্ত একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা এবং ইনসিটু হিসেবে ৪০ জন শিক্ষক। উপাধ্যক্ষ পদ প্রায় তিন-চার মাস শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি চলছে বলে জানা গেছে। গত পাঁচ দিনে কলেজে নিয়মিত পাঠদানও কার্যত বন্ধ রয়েছে।

 

কলেজের সব বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা একত্র হয়ে ইতিমধ্যে কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেছেন। বরিশাল শহরের তিনটি সরকারি কলেজের অধিকাংশ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা আলোচনা সভা করে বিএম কলেজে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন সোমবার, ২৪ আগস্ট রাতে। পদায়ন আদেশ বাতিল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

 

কলেজের প্রতিক্রিয়া

অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম বরিশাল নিউজকে জানান, উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক আজাদের যোগদানের বিষয়ে কলেজের বিসিএস ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি আপত্তি রয়েছে। নতুন উপাধ্যক্ষের যোগদানের খবর পেয়ে অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে একত্র হন শিক্ষকরা রবিবার, ২৩ আগস্ট সকালে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেদিন ক্যাম্পাসে আসেননি অধ্যক্ষ নিজেও, আর শিক্ষকদের অবস্থানের মুখে যোগদান না করেই কলেজ থেকে ফিরে যান অধ্যাপক আজাদ।

 

বিসিএস ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে তারা ১০ শতাংশ কোটার একজন অধ্যাপককে উপাধ্যক্ষ পদে মেনে নেবেন না।

 

 আন্দোলনকারী সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম বরিশাল নিউজকে বলেন, "আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই, ক্যাডার মর্যাদা রক্ষায় ২০১৭ সাল থেকে নো বিসিএস, নো ক্যাডার ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছি। ক্যাডারভুক্ত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বঞ্চিত করে নন-ক্যাডার আজাদকে আমরা মানব না।"

 

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের একটি অংশ দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় সভা-মিছিলে অধ্যাপক আজাদের সম্পৃক্ততা ছিল। 

 

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক আজাদ। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি জোর করে এই পদ পাইনি, সরকার আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দিয়েছে। এই মুহূর্তে আমি অসহায়, যোগদান করতে পারছি না। এটা আমার জন্য বিব্রতকর।"

 

প্রেক্ষাপট

একই ধরনের কোটায় অতীতেও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। সৈয়দ গোলাম ফারুক ১০ শতাংশ কোটায় নিযুক্ত হয়ে পরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হন, আর আব্দুল মান্নান সরকার একই কোটায় নিযুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক ছিলেন। ওই সময় শিক্ষা ক্যাডারের পক্ষ থেকে তেমন প্রতিবাদ দেখা যায়নি বলে জানা গেছে।


 


মন্তব্য লিখুন


Ish Brand

সর্বশেষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal