Advertise top
রাজনীতি

ভয়াল ২১ আগস্ট: ২২তম বার্ষিকীতে স্মৃতি ও আইনি প্রেক্ষাপট

বরিশাল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ আগষ্ট ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম    

ভয়াল ২১ আগস্ট: ২২তম বার্ষিকীতে স্মৃতি ও আইনি প্রেক্ষাপট
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে চালানো রক্তক্ষয়ী গ্রেনেড হামলার ঘটনাস্থল। ছবি: আর্কাইভ

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে (বর্তমানে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ) চালানো ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার আজ ২২তম বার্ষিকী। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট  চালানো সেই নারকীয় হামলায় ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক নেতা-কর্মী মারাত্মকভাবে আহত হন। 

 

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী ও বিভীষিকাময় দিন হিসেবে দিনটি চিহ্নিত হয়ে আছে।

 

মামলার বিচারিক ইতিহাস ও আইনি প্রক্রিয়া

২০০৪ সালের এই ঘটনার পর মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করা হয়। শুরুর দিকে মামলা দুটির তদন্ত নিয়ে জজ মিয়াসহ নানান বিতর্ক উঠেছিল। 

 

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলাগুলোর তদন্ত নতুনভাবে শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে সিআইডি ২২ জনকে আসামি করে আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করে। 

 

পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়ে আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়।  

 

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলা দুটির রায় দেন। সে সময় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।  

 

হাইকোর্টের খালাস ও আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়

পরবর্তী সময়ে সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের আগের ওই রায় বাতিল করেন। এর ফলে খালাস পান মামলার সব আসামি।  

 

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে হাইকোর্টের খালাসের রায়ই বহাল রাখেন।

 

আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়, তথ্যপ্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও আইনি দিক পর্যালোচনা করে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে কোনো দুর্বলতা বা বেআইনি কিছু পাওয়া যায়নি। বিচারিক আদালতের সাজা বাতিল ও আসামিদের খালাস প্রদানের সিদ্ধান্তটি ন্যায়সংগত ছিল।

 

উল্লেখ্য, হাইকোর্ট তাদের রায়ে নিহত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের স্বার্থে নতুন করে সুষ্ঠু তদন্তের সুপারিশ করেছিল। তবে আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে হাইকোর্টের সেই পর্যবেক্ষণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুলিপি পাঠানোর নির্দেশনাটি বাতিল করেন।


 


মন্তব্য লিখুন


Ish Brand

সর্বশেষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal