Advertise top
অর্থনীতি

দেশের অর্থ বছরের সময় অবশেষে পরিবর্তন হল

বরিশাল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ আগষ্ট ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম       

দেশের অর্থ বছরের সময় অবশেষে পরিবর্তন হল
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থবছর সময় পরিবর্তন করার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার,১৭ আগস্ট সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

এটি পুরোপুরিভাবে কাযকর হবে ২০২৮-২৯ অর্থ বছর থেকে। এ কারণে নতুন চক্র শুরু হওয়ার আগে অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরটি জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাস ধরে চলবে।

 

বর্তমানে বাংলাদেশে জুলাই-জুন অর্থবছর চালু আছে, যার ফলে অবকাঠামোগত কাজ প্রায়শই জুলাই-আগস্টের বর্ষাকালেও চলতে থাকে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর ফলে প্রকল্প বিলম্বিত হতে পারে, কাজের গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগের কারণ হতে পারে। এতে আরও বলা হয়, এপ্রিল-মার্চ চক্র চালু হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আইন ও অর্থ বিভাগ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

 

এই পরিবর্তনের জন্য সংবিধান ও ১৮৯৭ সালের সাধারণ ধারা আইনে সংশোধনী আনার পাশাপাশি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।

 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ, প্রক্রিয়াগত বিলম্ব কমানো এবং বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে সব মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ড্যাশবোর্ড চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আইন ও অর্থ বিভাগ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

 

এই পরিবর্তনের জন্য সংবিধান ও ১৮৯৭ সালের সাধারণ ধারা আইনে সংশোধনী আনার পাশাপাশি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।

 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ, প্রক্রিয়াগত বিলম্ব কমানো এবং বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে সব মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ড্যাশবোর্ড চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

 

কেন অর্থবছর পরিবর্তনের চিন্তা

সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক বছর ধরেই বিশেষজ্ঞ ও ঠিকাদাররা জুলাই-জুন অর্থবছর পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

 

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন টিবিএসকে বলেন, "অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন পক্ষ অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের দাবি করে আসছিল। এর কিছু বাস্তব কারণও রয়েছে।"

 

তিনি আরও বলেন, "অর্থবছরের সময় পরিবর্তন করলে অন্যান্য খাতেও কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। সেগুলো একবারে সম্ভব না হলেও ধাপে ধাপে অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বয় করে নিতে হবে।"

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এর আগে ২০১০ সালেও অর্থবছর পরিবর্তনের এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ করা হলে শেষ তিন মাস পড়বে জানুয়ারি থেকে মার্চে। এতে অন্তত বর্ষাকালকে অর্থবছরের একেবারে শেষ প্রান্ত থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা, দরপত্র, কাজ বাস্তবায়ন ও বিল পরিশোধের সময়সূচি নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ তৈরি হবে।

 

সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচনায়ও জুলাই-জুনের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ বা জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার পক্ষে যুক্তি হিসেবে অর্থবছরের শেষদিকে তড়িঘড়ি করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা কমানোর বিষয়টি উঠে এসেছে।

 

২০২৬ সালের বাজেট প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব দেয়।

 

তারা বলছেন, এর জন্য প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র প্রক্রিয়া, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, অর্থছাড়, ক্রয় ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের পুরো ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন।


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal