বরিশাল নিউজ, ভোলা
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৪ এএম আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

ভোলার লালমোহনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বিডিপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যার পর উপজেলার রায়চাঁদ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোলা জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষে অংশ নেওয়া একপক্ষ নৌবাহিনীর গাড়িতে হামলার চেষ্টা করে।
জামায়াত সমর্থিত বিডিপি সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সকাল ১১ টায় রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীরা গণভোট ও সাংগঠনিক কাজে ইউনুছ পাটওয়ারী বাড়িতে যান। তখন ওখানকার নুরনবীর ছেলে রুবেল (২৮) ওই নারী কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং নারী কর্মীদের হেনস্থা করেন। তখন একজন নারী কর্মী তার স্বামী রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী মো: জসিম উদ্দিনকে এ ঘটনা জানান। জসিম উদ্দিন ঘটনা শুনে মুঠোফোনে রুবেলের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মুঠোফোনে রুবেল খুব খারাপ ভাষায় গালাগালি করে। এরপর রুবেল জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে তার সাথে হাতাহাতি করে। এ ঘটনা শুনে তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। কিন্তু এরমধ্যেই বিএনপির আরো নেতা-কর্মীরা বাজরে সংঘবদ্ধ হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: জাফর ইকবাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হানিফ হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হন। তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে আরো আক্রোমনাত্মক হয়ে উঠেন। আমি ঘটনা শুনে আমাদের নেতা-কর্মীদের সেখান থেকে চলে আসতে বলি। আমাদের নেতা-কর্মীরা বাজার থেকে চলে আসতে শুরু করলে পিছন থেকে হঠাৎ তারা আমাদের কর্মীদের উপর আক্রমন করে। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় তারা আমাদের আনুমানিক ১৫ জন নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি নামে তারা জামায়াতের সহায়তায় মহিলা লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে লালমোহনের স্বভাবিক পরিস্থিতিকে খারাপ করার লক্ষ্যে দুপুরের দিকে মহিলা লীগের নেত্রীদের দিয়ে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালায়।
পরে মাগরিববাদ লালমোহন থেকে আওয়ামী ও জামায়াতের ক্যাডার নিয়ে আমাদের যুবদলের সভাপতি জসিম ও তার ভাই আলমগীর, রুহুল আমি, নুরনবীসহ ১২-১৫ জনকে অতর্কিত আক্রমন করে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তারা লালমোহনের পরিস্থিতিকে অবনতি করতে চাচ্ছে যাতে নির্বাচন বানচাল হয়। এ ঘটনার জন্য দায়ী আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও জামায়াতের ক্যাডারদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো: অলিউল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের দাওয়াতী কাজের ব্যাঘাত নিয়ে উত্তেজনা তৈরী হয়। আমরা উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে ঘটনাটি মিমাংশা করে দেই। কিন্তু সন্ধ্যার পর জামায়াতের নেতা-কর্মীরা রায়চাঁদ বাজারে মোটরসাইকেল মহড়া দেয়। এরপরই বিএনপির নেতা-কর্মীরাও একত্রিত হয়। রায়চাঁদ বাজারে রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট দিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন