Advertise top
ভোলা

দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত লালমোহনের ফয়জুল

বরিশাল নিউজ, ভোলা

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম    

দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত লালমোহনের ফয়জুল
লালমোহনের ফয়জুল আলম চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাননি। বরিশাল নিউজ ডটকম

ভোলার লালমোহনের ফয়জুল আলম নিয়োগ পরীক্ষায় উপজেলায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগপত্র পাননি। যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়ায় তিনি এখন বেকার।

 

রাজস্ব খাতের সহকারী শিক্ষক পদে ২০২৫ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন ফয়জুল আলম। তিনি লালমোহন উপজেলার বাসিন্দা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পান তিনি। উপজেলার মেধা তালিকায় তার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।

 

ভোলা জেলায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ২৫৬ জন। এর মধ্যে ৪৩ জন লালমোহনের। এই উপজেলায় ফয়জুল আলম ছাড়া বাকি সবাই নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

 

জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জন চূড়ান্ত সুপারিশ পান। ফয়জুল আলমসহ অনেকের নাম সেই গেজেটে ছিল না। বাদ পড়া শিক্ষকদের অনেকে ঢাকায় আন্দোলন করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমেও আসে। পরে দ্বিতীয় দফায় বাদ পড়াদের নিয়ে আরেকটি গেজেট প্রকাশিত হয়।

 

লালমোহনে কাগজপত্র জমা দেওয়া সবার নাম এই গেজেটে আসে। শুধু ফয়জুল আলমের নাম আসেনি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তিনি জানতে পারেন, যাচাই-বাছাইয়ে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

ফয়জুল আলম বলেন, "চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও অজ্ঞাত কারণে আমি নিয়োগপত্র পাইনি।" তিনি জানান, কাগজপত্রে কোনো সমস্যা নেই। আগে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। প্রাথমিকে নিয়োগ পাওয়ায় সেই চাকরি ছেড়ে দেন।

 

এখন তিনি বেকার এবং হতাশায় ভুগছেন বলে জানান। পরিবারে স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা ও ভাই-বোন আছেন। নিজেকে তিনি গরিব পরিবারের সন্তান বলে উল্লেখ করেন।

 

এর আগে তিনবার প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক ধাপে অংশ নিয়েছেন ফয়জুল আলম। তবে চূড়ান্ত তালিকায় আসতে পারেননি। এবার সুপারিশ পেয়েও যাচাই-বাছাইয়ের জটিলতায় আটকে গেছেন বলে জানান তিনি। তার সরকারি চাকরির বয়সসীমাও পেরিয়ে গেছে।

 

ফয়জুল আলম বলেন, "আমার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই।" তার ভাষ্য, অস্বচ্ছ যাচাই-বাছাইয়ের নামে হয়রানি করা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম বৃথা যাবে।

 

তিনি প্রধানমন্ত্রী, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার দাবি, গেজেটে নাম যুক্ত করে নিয়োগপত্র দেওয়া হোক। তিনি বলেন, "আমি আমার পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাই।"

 

ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, জেলায় চারজন শিক্ষক বাদ পড়েছেন। এর একজন লালমোহনের। এই চারজনের নথিসহ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা অফিসার বলেন, অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


 


মন্তব্য লিখুন


Ish Brand

সর্বশেষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal