বরিশাল নিউজ
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

ক্লাসে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। অথচ বরিশালের চার সরকারি কলেজে ৬৩ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন মাত্র ১ হাজার ৮০০টি।
সে হিসাবে প্রতি ৩৫ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক আসন মাত্র একটি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে আগে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা ছিল না। ব্রজমোহন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, "বর্তমানে ৬০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন, অন্যথায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না।" তার ভাষ্য, এ কারণে বাইরের শিক্ষার্থীদের শহরে থাকা প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।
ব্রজমোহন কলেজে ৩৭ বছর নতুন হল নেই
কলেজটিতে শিক্ষার্থী প্রায় ৩২ হাজার। আবাসিক আসন ১ হাজার ২০০টি। ছয়টি হলের বেশির ভাগই জরাজীর্ণ। কোনো কোনো হলে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থী থাকেন। গত ৩৭ বছরে কলেজে নতুন কোনো হল হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী জাবের আহমেদ বলেন, "কলেজের বিদ্যমান আবাসিক হলগুলোর অবস্থা ভঙ্গুর।" তিনি জানান, সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
বাকি তিন কলেজের চিত্র
সরকারি বরিশাল কলেজে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী পড়েন। তাদের জন্য কোনো আবাসিক ব্যবস্থা নেই। অধ্যক্ষ ড. মো. মহিউদ্দিন জানান, ছেলেদের চেয়ে মেয়েশিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। নিরাপত্তার কথা ভেবে অন্তত একটি হল নির্মাণ জরুরি বলে মনে করেন তিনি। আবাসনের অভাবে ক্লাসে উপস্থিতিও খুব কম বলে জানান তিনি।
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে আবাসিক সুবিধা পান ১০০ জন ছাত্র। অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান খান জানান, নতুন হলের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রী প্রায় ১১ হাজার। আসন মাত্র ৫০০টি। ফলে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ছাত্রীকে বাইরে থাকতে হচ্ছে।
ব্রজমোহন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ আহমেদ বলেন, নতুন হলের পাশাপাশি পুরোনো হলগুলোও দ্রুত সংস্কার করতে হবে। আরেক শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, "আবাসন সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সংকট আরও তীব্র হবে।"
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন