Advertise top
বিদেশ

আন্তর্জাতিক আইনের লড়াইয়ে নোবেল পেলেন পিল্লাই

বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম    

আন্তর্জাতিক আইনের লড়াইয়ে নোবেল পেলেন পিল্লাই
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন নাভি পিল্লাই।  নিকলাস এলমেহেদ

দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন।

 

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ওসলোতে সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার, ৯ অক্টোবর পুরস্কারের ঘোষণা দেয়। শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে পিল্লাইকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

 

কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি বৈশ্বিক শ্রদ্ধা ক্ষমতার রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলেও কমিটি দেখছে।

 

কমিটি জানায়, পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকার পাশাপাশি তার বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা ও সাহসকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত এক পরিবারে ১৯৪১ সালে জন্ম পিল্লাইয়ের। আইন পড়ার পর তিনি বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই শুরু করেন। ডারবানে ১৯৬৭ সালে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান গড়েন তিনি। প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ার কৃতিত্ব তার।

 

পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে ১৯৮৮ সালে আইনে ডক্টরেট ডিগ্রি নেন তিনি।

 

দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে ১৯৯৫ সালে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন পিল্লাই। এই পদে তিনিই প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী। চার বছর পর রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটিআর) বিচারক ও সভাপতি হন তিনি।

 

সেখানে যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও ঘৃণা ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড কীভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের আওতায় আসতে পারে, তা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন পিল্লাই। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (আইসিসি) বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 

তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার (ওএইচসিএইচআর) ছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দখলদার ইসরাইলের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

 

বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক আরেকটি দায়িত্বও ছিল তার। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের যে মামলা হয়, তাতে ২০১৯ সালে অস্থায়ী বিচারক হিসেবে কাজ করেন পিল্লাই। মামলাটি রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগকেন্দ্রিক। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal