বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বুধবার, ৭ অক্টোবর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে অ-রৈখিক প্রভাব ও স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ সম্মান দেওয়া হয়।
জীবজগতের কিছু অণু দুটি রূপে থাকে। অ্যামিনো অ্যাসিড তার উদাহরণ। এক রূপ অন্যটির আয়নার প্রতিবিম্বের মতো, যেমন মানুষের দুই হাত। অথচ প্রাণকোষ ও প্রোটিনে সাধারণত একটি রূপই মেলে। রসায়নের ভাষায় একে বলা হয় হোমোচিরালিটি।
পরীক্ষাগারে ওষুধ বানানোর সময় দুই রূপের সমান মিশ্রণ তৈরি হতো। এতে চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলত না। প্রকৃতিতে একটি রূপের প্রাধান্য কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধাঁধায় ছিলেন।
রসায়ন নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান হেইনার লিঙ্কে জানান, দুই বিজ্ঞানী এক শতাব্দীরও পুরোনো এই রহস্যের সমাধান দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তাদের উদ্ভাবিত রাসায়নিক প্রক্রিয়াগুলো সত্যিই চমৎকার।”
অঁরি কাগানের জন্ম ১৯৩০ সালের ১৫ ডিসেম্বর, ফ্রান্সে। শিক্ষা শেষ করেন সর্বন বিশ্ববিদ্যালয় ও একোল নাসিওনাল সুপেরিওর দে শিমিল দ্য প্যারিস থেকে। প্রায় ৪০ বছর তিনি প্যারিস-সুদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। এখন সেখানে ইমেরিটাস অধ্যাপক। অপ্রতিসম অনুঘটনে তিনি ১৯৮৬ সালে ‘অ-রৈখিক প্রভাব’ আবিষ্কার করেন। উলফ প্রাইজ ও বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন মেডেলসহ নানা পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
কেনসো সোয়াইয়ের জন্ম ১৯৫০ সালে, জাপানে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৭৯ সালে অর্গানিক সিন্থেসিসে পিএইচডি করেন। এখন তিনি টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের ফলিত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক। তার নকশা করা বিক্রিয়া ‘সোয়াই রিঅ্যাকশন’ নামে পরিচিত। পরীক্ষাগারে তিনি ২০০৩ সালে এমন এক বিক্রিয়া দেখান, যেখানে কেবল একটি নির্দিষ্ট রূপই তৈরি হয়। জীবন্ত কোষের বাইরে এমন সাফল্য আগে কেউ দেখাতে পারেননি।
নোবেল রসায়নের কিছু তথ্য
গত বছর এ পুরস্কার পান সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম. ইয়াগি। ধাতব-জৈব কাঠামো তৈরির প্রযুক্তির জন্য তাদের এ সম্মান দেওয়া হয়।
রীতি অনুযায়ী আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে মেডেল, ডিপ্লোমা ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে। অর্থ দুজনের মধ্যে সমান ভাগ হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন