বরিশাল নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ বুঝি এই মূহুর্তের কথা চিন্তা করেই লিখেছিলেন,‘নক্ষত্রেরও একদিন মনে যেতে হয়।’
দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ৮৫ হাজার দর্শক তাকে শেষবারের মতো মাঠে দেখেছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল মেসির ২০৮তম ম্যাচ।
ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন নিকোলাস ওটামেন্দি। এই ম্যাচটি ওটামেন্দিরও শেষ ম্যাচ। গোলের পাস দেন মেসি। পেনাল্টি থেকে ৭১ মিনিটে নিজেও জালে বল পাঠান তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে এটি তার ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোল। আরেকটি গোল করেন নিকো পাজ। সেটিরও অ্যাসিস্ট করেন মেসি।
ফল অবশ্য এদিন মুখ্য ছিল না। বিদায়ের এই আয়োজনের নাম ছিল ‘দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো’। কিকঅফের আগে মাঠজুড়ে বিছানো হয় আর্জেন্টিনার বিশাল এক জার্সি। জার্সির ১০ নম্বরের ওপরে লেখা ছিল ‘গ্রাসিয়াস’, অর্থাৎ ধন্যবাদ।
ম্যাচের ১০ মিনিটে খেলা এক মিনিট থামিয়ে মেসিকে করতালিতে অভিবাদন জানানো হয়। শেষ বাঁশির পর স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোন শো শুরু হয়। রাতের আকাশে ভেসে ওঠে মেসির ছবি।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে মেসি বলেন, “২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সি রক্ষা করতে পারা আমার জন্য বিশাল গর্বের বিষয়।”
অবসরের সিদ্ধান্তে তার কোনো আক্ষেপ নেই। মেসি বলেন, “যদিও আমি সারাজীবন এখানে থাকতে চাই, তবু আমার মনে হচ্ছে এটাই সঠিক সময়।” বিশ্বকাপ অভিযানের কঠিন সময়ে তার বাবা গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। সিদ্ধান্তের পেছনে এটিও একটি কারণ বলে জানান মেসি।
দুই মাস আগে মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা যান। এরপরই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রত্যাশার আগেই বুট তুলে রাখতে পারেন।
স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে চোখের পানি মুছতে দেখা যায় মেসিকে। তার বাসের চারপাশে ভিড় করেন অসংখ্য সমর্থক। মাঠে তিন সন্তানকে নিয়ে প্রবেশ করেন তিনি। ভিআইপি বক্স থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি।
ম্যাচের আগে বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেয়। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদর দপ্তরে এই অনুষ্ঠান হয়। রসিকতা করে মেসি বলেন, “আমি বলতে পারব যে আমি একজন সম্মানসূচক ডাক্তার!”
সমাজমাধ্যম এক্সে মেসিকে শ্রদ্ধা জানান বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ নেইমার। তিনি লেখেন, ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শেখানোর জন্য মেসির প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এর আড়াই মাস পর এল এই বিদায়। ওই হারের পর মেসি লিখেছিলেন, “আমি সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি; দেওয়ার মতো আর কিছুই আমার অবশিষ্ট নেই।”
মেসির সময়ে আর্জেন্টিনা একটি বিশ্বকাপ জিতেছে এবং দুবার হয়েছে রানার্সআপ। ২০২২ সালে ৩৬ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে দলকে তৃতীয় বিশ্বকাপ এনে দেন তিনি। ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকাও জেতে দলটি। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন