বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

মালয়েশিয়া আজ মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের প্রায় এক হাজার ৫০০ নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জাতিসংঘ ও কয়েক ডজন মানবাধিকার সংগঠনের আপত্তির মধ্যেই এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মিয়ানমারের সঙ্গে সম্মত বৃহত্তর পরিকল্পনার এটি প্রথম ধাপ, যেখানে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সকালে পেরাক রাজ্যের লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরসহ কয়েক ডজন বাস পৌঁছায়। পরে সেগুলো বন্দরে নেওয়া হয়, যেখানে মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও একটি ভাসমান হাসপাতাল নোঙর করা ছিল। বাসে কারা ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র প্রক্রিয়া শুরুর কথা নিশ্চিত করেছেন, তবে বিস্তারিত জানাননি। মন্ত্রণালয়ের ২৭ আগস্টের বিবৃতি অনুযায়ী, মিয়ানমার সরকারের শনাক্ত করা এক হাজার ৪৭৬ জন এই দলে রয়েছেন।
মালয়েশিয়া বলছে, কর্মসূচি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাভিত্তিক। তবে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী নয় এবং ফেরত যাদের পাঠানো হচ্ছে, তাদের শনাক্তকরণে সংস্থাটি যুক্ত ছিল না। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সশস্ত্র সংঘাত চলছে।
মালয়েশিয়ায় মিয়ানমারের চিন সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের প্রতিনিধি জেমস বাউই থাং বিক জানান, যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের মধ্যে কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থী আছেন, এমনকি ইউএনএইচসিআরের কার্ডধারীও রয়েছেন। তার আশঙ্কা, ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের জোর করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ বা আটক করা হতে পারে।
দলে রোহিঙ্গা আছেন কি না, তা রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং বলেছেন, এটি প্রকৃত নাগরিকদের ফেরানোর প্রক্রিয়া, রোহিঙ্গাদের ফেরানোর নয়।
রয়টার্স জানায়, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ মাসে বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণের বিনিময়ে তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানাবেন। ইউএনএইচসিআরের তথ্যে মালয়েশিয়ায় মিয়ানমারের প্রায় এক লাখ ৯৩ হাজার শরণার্থী আছেন, যাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রিত আছেন। ২০১৭ সালে প্রায় সাত লাখ মানুষ সামরিক সহিংসতা থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।
সদ্য শেষ হওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেন। এতে ছিল প্রত্যাবাসনের স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ, মিয়ানমারে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা। বাংলাদেশের অবস্থান, সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই এবং পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সুত্র: রয়টার্স, এপি
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন