বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে বিক্ষোভে পুলিশ আটক করে ১০০ জনের বেশি মানুষকে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেন দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভাষণের শুরুতেই সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় কথা বলেন তিনি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে আখ্যা দেন এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
গাজা যুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ নাকচ করে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের কর্মকাণ্ড বরং গণহত্যার ‘বিপরীত’। এই অভিযোগকে তিনি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা বলে মন্তব্য করেন। ভাষণ চলাকালে ফিলিস্তিনপন্থী কয়েক ডজন প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
নিজের ভাই ইয়োনাথান নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি, যিনি ১৯৭৬ সালে উগান্ডার এন্তেবেতে এক জিম্মি উদ্ধার অভিযানে নিহত হয়েছিলেন। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ফেব্রুয়ারিতে চালানো যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি হামলাকে যৌক্তিক বলে দাবি করেন তিনি।
ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসের প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ভিসা না দেওয়ায় সরাসরি জাতিসংঘে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। রামাল্লাহ থেকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে দখলদার ইসরাইলের নীতিকে ‘ঔপনিবেশিক পরিকল্পনা’ বলে অভিহিত করেন আব্বাস। ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে বলে সতর্ক করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নিউইয়র্কে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। জুইশ ভয়েস ফর পিস ও এনওয়াইসি-ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার নেতৃত্বে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে সড়ক অবরোধ করেন কয়েকশ বিক্ষোভকারী। পরে ফিলিস্তিনিয়ান ইয়ুথ মুভমেন্ট ও দ্য পিপলস ফোরামের আয়োজনে হাজারো মানুষ জাতিসংঘ ভবনের দিকে মিছিল করেন।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ আল জাজিরাকে জানায়, বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে আটক করা হয় ১০৩ জনকে, পরে তাদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, আটকদের মধ্যে নয়জন ছিলেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা পদপ্রার্থী, যাদের একজন নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ড্যারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে।
নেতানিয়াহুর ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ মন্তব্যের জবাবে মামদানি বলেন, তার এসব কথা গাজায় গণহত্যা আড়াল করার উদ্দেশ্যে বলা ভিত্তিহীন মিথ্যা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্কে ‘অস্বাগত’ ঘোষণা করেছিলেন মামদানি, যদিও পরে তিনি স্পষ্ট করেন যে তার হাতে গ্রেপ্তারের কোনো ক্ষমতা নেই।
নির্বাচনী প্রচারণা ও ইহুদি ধর্মীয় উৎসব সুকোতের কারণে দ্রুত ইসরাইলে ফিরে যাওয়ার কথা জানান নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাতের কোনো সূচি রাখা হয়নি এই সফরে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন