বরিশাল নিউজ প্রযুক্তি
প্রকাশ : ১৭ আগষ্ট ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

হুট করে দেখলেন আপনার ফেসবুক প্রোফাইল ছবি বদলে গেছে, কিংবা আপনার নামে এমন সব পোস্ট বা মেসেজ যাচ্ছে যা আপনি লেখেননি—তাহলে বুঝে নিন, আপনার আইডিটা হ্যাক হয়ে গেছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, মাথা ঠান্ডা রেখে কয়েকটা কাজ করলেই আইডি ফিরে পাওয়া যায় এবং পরবর্তী আইনি ঝামেলা থেকেও বাঁচা যায়। চলুন দেখে নিই বিস্তারিত।
প্রথমেই বুঝবেন কীভাবে আইডি হ্যাক হয়েছে
কয়েকটা লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন গণ্ডগোল হয়েছে—
এসবের কোনো একটা হলেই সময় নষ্ট না করে নিচের কাজগুলো শুরু করে দিন।
সবার আগে যান facebook.com/hacked-এ
আইডি হ্যাক হয়েছে বুঝলে সোজা চলে যান facebook.com/hacked লিংকে। চেষ্টা করবেন এমন একটা ফোন বা কম্পিউটার থেকে ঢুকতে, যেটা দিয়ে আগে ওই আইডিতে লগইন করেছিলেন। এতে ফেসবুক সহজে বুঝতে পারে যে আসল মালিকই আইডি ফেরত চাইছেন।
যদি কোনোভাবে লগইন করতে পারেন, তাহলে "মাই অ্যাকাউন্ট ইজ কমপ্রোমাইজড" অপশনটা বেছে নিন। এটা সাধারণ পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার প্রসেস থেকে একদম আলাদা, হ্যাক হওয়া আইডির জন্যই বিশেষভাবে বানানো।
ইমেইল-ফোন নম্বরও যদি বদলে ফেলে হ্যাকার
অনেক সময় হ্যাকার আইডির সাথে যুক্ত ইমেইল বা ফোন নম্বরও বদলে দেয়। এমন হলে ঘাবড়াবেন না। আগে যেসব ইমেইল বা নম্বর ব্যবহার করতেন, সেগুলো দিয়ে একবার চেষ্টা করে দেখুন। ইমেইল অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস থাকলে সেই ইমেইল প্রোভাইডারের সাহায্য নিয়েও কাজ সহজ হয়ে যায়।
আগে থেকে "ট্রাস্টেড কন্টাক্টস" মানে বিশ্বস্ত বন্ধু ঠিক করা থাকলে তাঁদের মাধ্যমেও রিকভারি কোড পাওয়া যায়। এসবেও কাজ না হলে ফেসবুক আপনার এনআইডি বা পরিচয়পত্র দিয়ে যাচাই করারও সুযোগ দেয়।
থানায় জিডি করবেন কেন, কীভাবে
আইডি হাতে ফিরে আসুক বা না আসুক—একটা কাজ একদম বাদ দেওয়া যাবে না, সেটা হলো থানায় জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করা। এটা অনেকেই এড়িয়ে যান, অথচ এটাই সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর একটা।
জিডি কেন করবেন তা একটু খোলাসা করে বলা যাক। হ্যাকার আপনার আইডি ব্যবহার করে যদি কারো কাছ থেকে টাকা চায়, কাউকে হুমকি দেয়, কিংবা আপত্তিকর কোনো কনটেন্ট পোস্ট করে, তাহলে আইনি দিক থেকে সেই দায় প্রথমে আপনার ওপরই বর্তায়—কারণ কাগজে-কলমে আইডিটা তো আপনারই। জিডি করা থাকলে আপনার কাছে প্রমাণ থাকবে যে, একটা নির্দিষ্ট তারিখ থেকে আইডির নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে ছিল না। ভবিষ্যতে কোনো মামলা বা হয়রানির মুখে পড়লে এই জিডিই আপনাকে আইনি সুরক্ষা দেবে।
জিডি করার জন্য দুইটা পথ খোলা আছে—
নিকটস্থ থানায় সরাসরি গিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছে অভিযোগ জানিয়ে জিডি করতে পারেন
চাইলে ঘরে বসেই gd.police.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে জিডি করা যায়
জিডি করার সময় যা যা বলবেন বা লিখবেন—
ফেসবুক আইডির নাম বা লিংক
কবে, আনুমানিক কোন সময় থেকে আইডিতে প্রবেশ করা যাচ্ছে না বা হ্যাক হয়েছে মনে হচ্ছে
আইডি দিয়ে অস্বাভাবিক কিছু (যেমন টাকা চাওয়া, আপত্তিকর পোস্ট) ঘটেছে কি না
নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য
জিডি হয়ে গেলে একটা জিডি নম্বর দেওয়া হয়, সেটা যত্ন করে রেখে দেবেন। এই নম্বরটা পরে ফেসবুকের কাছে অভিযোগ জানানোর সময়, বা প্রয়োজনে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে যোগাযোগ করার সময় কাজে লাগবে।
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তাও নিতে পারেন
শুধু থানায় জিডি করেই থেমে যাওয়ার দরকার নেই। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিজস্ব সাইবার ক্রাইম ইউনিট আছে, যারা এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কাজ করে। চাইলে cyberhelp@dmp.gov.bd ইমেইলে অভিযোগ জানাতে পারেন, অথবা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারেও যোগাযোগ করা যায়। বিশেষ করে আইডি দিয়ে যদি কাউকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়, বা অশ্লীল কনটেন্ট ছড়ানো হয়, তাহলে এই ইউনিটের সহায়তা নেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়ে।
আইডি ফিরে পাওয়ার পর যা যা করবেন
আইডি হাতে ফিরে পাওয়ার পর একটু বসে গুছিয়ে এই কাজগুলো করে নিন—
যা একদম করবেন না
কেউ যদি ফোন করে বা মেসেজ দিয়ে পাসওয়ার্ড বা কোড চায়, নিজেকে ফেসবুকের লোক দাবি করলেও কখনো দেবেন না। সন্দেহজনক বা অচেনা কম্পিউটার থেকে পাসওয়ার্ড বদলাবেন না, কারণ ওখানেই লুকিয়ে থাকতে পারে সমস্যা—আবারও আইডি হাতছাড়া হতে পারে। আর জিডি করতে দেরি করবেন না—আইডি ফিরে পাওয়ার আগেই জিডি করে ফেলা ভালো, পরে আর মনে না-ও থাকতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন