Advertise top
বিদেশ

পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের দৌরাত্ম্য

বরিশাল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ আগষ্ট ২০২৬, ০১:১৭ এএম    

পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের দৌরাত্ম্য
রামাল্লার কাছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় দুই ফিলিস্তিনি বোন আহত হয়েছেন। ছবি: ওয়াফা, শনিবার, ২৯ আগস্ট।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে নাবলুস শহরের অদূরে কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনি বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। ঘরের ভেতরে থাকা অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকেন, পাথর ছোড়াছুড়ি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীদের বদলে অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা হয়েছে।

 

কুসরায় নতুন হামলা

কুসরা গ্রাম ঘিরে বেশ কয়েকটি বাড়িতে শনিবার, ২৯ আগস্ট সকালে হামলা চালায় মুখোশধারী দখলদার বসতি স্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনি সংবাদ এজেন্সি ওয়াফা ও রয়টার্স এসব খবর জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, হামলাকারীরা একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে ফেলে পাথর ছোড়ে, এতে বাড়ির ভেতরে থাকা সাতজন দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

 

বাড়ির মালিক লুয়াই বায়রুতি জানান, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে ফোন করার পরও তিনিসহ ছয়জনকে প্রায় এক ঘণ্টা ঘরের ভেতরে আটকে থাকতে হয়, এই সময় বসতি স্থাপনকারীরা একটানা পাথর ছুড়তে থাকে। পাথরের আঘাতে নিজের হাতে জখম হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

আটকে পড়াদের একজন, পেশায় চিকিৎসাকর্মী সাদ্দাম উদায় জানান, সেনাবাহিনী ঘরের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের আটক করে, তবে বসতি স্থাপনকারীদের কাউকে আটক না করেই ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি জানান, কাঁদানে গ্যাসে চারজন এবং পাথরের আঘাতে দুজন আহত হয়েছেন।

 

দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে "দাঙ্গাকারীদের" সরিয়ে দেয় এবং বাড়ির ভেতরে থাকা বাসিন্দাদের সুরক্ষা দেয়। কেন কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হলো এবং বাসিন্দাদের আটক-নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বাহিনীটি।

 

তিন সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ

আল জাজিরা জানিয়েছে গত নয় আগস্ট থেকে কুসরার রাস আল-আইন এলাকায় তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে অবরোধ চালিয়ে আসছে দখলদার বসতি স্থাপনকারীরা। অবরুদ্ধ বাড়িগুলোতে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে জুলাই মাসে গ্রামের একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

 

আল জাজিরাকে অবরুদ্ধ বাসিন্দা, ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিক লুই আবু রিদি বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত, কারণ বসতি স্থাপনকারীরা এখনো বাড়ির আশপাশে অবাধে ঘুরছে এবং প্রতিবেশীদেরও হয়রানি করছে। খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে গ্রামের মেয়রের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয় বলে তিনি জানান, যাতে কয়েক দিন সময় লেগে যায়।

 

কুসরার মেয়র আবদুল আজিম ওয়াদি আল জাজিরাকে জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ইসরাইলি বাহিনী হামলাকারীদের পরিবর্তে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছে। রিদি রয়টার্সকে বলেন, শনিবার, ২৯ আগস্টের হামলা তিনি নিজের বাড়ি থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। ভারী সামরিক উপস্থিতি সত্ত্বেও প্রায় প্রতিদিনই এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে তিনি জানান।

 

ক্রমবর্ধমান বসতি স্থাপনকারী সহিংসতা

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোর প্রান্তে দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি মূলত ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ, যা ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাব্য এলাকাকে সংকুচিত করছে। দখলদার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের অধীনে বসতি সম্প্রসারণ ব্যাপক আকার নেওয়ায় সহিংসতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এদিকে সপ্তাহ ধরে চলা এই সহিংসতা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন নেতানিয়াহু, এমন খবর জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। তিনি এই হামলাকে ‘মুষ্টিমেয় দাঙ্গাকারীর কাজ’ বলে আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানান।

 

জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বেআইনি মনে করে। ইসরাইল অবশ্য এলাকাটিকে "বিতর্কিত" বলে দাবি করে দখলদারত্বের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

সূত্র: Al Jazeera, Reuters (Al-Monitor), Associated Press


 


মন্তব্য লিখুন


Ish Brand

সর্বশেষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal