Advertise top
পটুয়াখালী

শিশু বিক্রি করে আইফোন ক্রয়; আটক বাবা

বরিশাল নিউজ, পটুয়াখালী

প্রকাশ : ৩১ আগষ্ট ২০২৬, ০৩:২৩ এএম    

শিশু বিক্রি করে আইফোন ক্রয়; আটক বাবা
সন্তান বিক্রির চুক্তিতে ক্রেতা ও বিক্রেতার এই ছবিটিও ছিলো। ছবি এআই দ্বারা পরিমার্জিত

পটুয়াখালীর দশমিনায় নিজের দেড় বছর বয়সী ছেলেকে বিক্রি করে আইফোন কেনার অভিযোগে বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। বিক্রির টাকা ও পুরোনো একটি আইফোনের সঙ্গে বাড়তি অর্থ যোগ করে নতুন আইফোন কেনেন তিনি, অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

 

আটক ব্যক্তির নাম মো. মারুফ মুন্সি। তিনি দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা মফিজ মুন্সির ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রি মারুফ ঢাকায় কাজ করতেন।

 

মারুফকে রবিবার, ৩০ আগস্ট রাতে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয় । বরিশাল নিউজ ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম।

 

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ছেলেকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শনিবার, ২৯ আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে বের হন মারুফ । সন্ধ্যা পার হয়ে গেলেও তার বা শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

 

পরিবার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে ঢাকায় থাকা মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে শিশুটির বিষয়ে কিছু না জানালেও পরে জিজ্ঞাসাবাদে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে ছেলেকে বিক্রির কথা স্বীকার করেন মারুফ, পরিবারের এমনটাই দাবি।

 

সন্তান বিক্রি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট চুক্তি পত্র। ছবি সংগৃহীত


 

পরিবারের অভিযোগ, দশমিনার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের বাসিন্দা ইমরান হোসেনের কাছে শিশুটিকে বিক্রি করেন মারুফ। ঢাকায় ইমরানের সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সুবাদে এই লেনদেন হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, "শনিবার সকালে মারুফ আমাকে নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। পরে জানতে পারি, আইফোন কেনার জন্য তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই।"

 

তিনি আরও জানান, পারিবারিক কলহের জেরে মারুফের স্ত্রী প্রায় এক মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে যান, এরপর মারুফ ঢাকায় চলে যান। তিনি বাড়িতে ফেরেন শুক্রবার সন্ধ্যার আগে।

 

অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী বাবা মো. মারুফ । ছবি সংগৃহীত


 

অন্যদিকে ইমরান হোসেন দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে সন্তান দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন মারুফ। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে না থাকায় আলোচনা সাপেক্ষে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। পরে শিশুটিকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসেন বলেও জানান ইমরান।

 

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গলাচিপা উপজেলার চর কাজল এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযানে গেছে পুলিশ। ইমরান হোসেনকেও থানায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি আতিকুল ইসলাম।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে দশমিনা থানা পুলিশ।


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal