বরিশাল বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ আগষ্ট ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম আপডেট : ৩১ আগষ্ট ২০২৬, ০২:৫২ পিএম

ভারতের নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বক্তাদের একটি সভা নিরাপত্তার কারন দেখিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে সেখানকার পুলিশ। এই আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার আয়োজক ছিল ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি)। আলোচ্য বিষয় ছিল, ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’। এফসিসি এ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল বেলজিয়ামভিত্তিক সংগঠন ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’–এর সঙ্গে যৌথভাবে।
পুলিশ আয়োজকদের জানিয়েছে, কিছু বিতর্কের জন্য এই আলোচনা সভার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এফসিসির ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায়, শনিবার, ২৯ আগষ্ট সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
এই ক্লাবেই বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতি এবং বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।
২৪ঘন্টাসহ স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, নতুনভাবে আর কোনো বিতর্ক যাতে সৃষ্টি না হয়, সম্ভবত সেই কারণে শনিবারের আলোচনা সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে ভারত যে আন্তরিক, এই সিদ্ধান্ত তার একটি প্রমাণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাসিনা-বিতর্ক নিয়ে একাধিকবার বলেছে, ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, তার সঙ্গে সরকারের কোনো লেনাদেনা নেই। ওই বক্তব্য ভারত সরকারের মনোভাবও নয়।
এফসিসিতে শনিবারের আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদের। তিনি ছাড়াও আমন্ত্রিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরান নবী। তাঁরা ছাড়া অন্য বক্তাদের মধ্যে আমন্ত্রিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, রোহিঙ্গা আন্দোলন অধিকারকর্মী রবি আলম, ইউনাইটেড ডিপ্লোমেটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম জিলানিসহ অন্যরা।
চেক রিপাবলিকের রাজনীতিবিদ ওন্দ্রেজ দোস্তাল ও জার্মান রাজনীতিবিদ পিটার ফারেনহোল্টজেরও সেমিনারে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। আলোচনা সভার একটা অংশ ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব।
শনিবারই দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। আবেদনপত্রে হাতে লিখে বলা হয়, অনুমতি না দেওয়ার কারণ ‘কিছু বিতর্ক’। এফসিসির সভাপতি ওয়াইল আওয়াদ গণমাধ্যমকে বলেন, অনুষ্ঠানটা ছিল পার্টনারশিপ ও উন্নয়ন–সংক্রান্ত। তিনি বলেন, ‘এটা ছিল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা। আমি নিশ্চিত নই, দিল্লি পুলিশ কেন অনুমতি দিল না।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন