বরিশাল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ আগষ্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

আজ বুধবার, হিজরি ১২ রবিউল আউয়াল। এ দিন মানব জাতির শিরোমণি মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাতের দিন।
এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সাঃ) নামে পরিচিত। প্রায় এক হাজার ৪০০ বছর আগে এই দিনে আরবের মরু প্রান্তরে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
আবার এই দিনে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।
এক সময় গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।
তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানান অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃংখলা।
এ যুগকে বলা হতো আইয়ামে জাহেলিয়াত। তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং মূর্তিপূজা করত। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহকে (সা.) প্রেরণ করেন এই ধরাধমে। মহানবী অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেম অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। পঁচিশ বছর বয়সে মহানবী বিবি খাদিজা নামের এক ধর্ণাঢ্য মহিলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নব্যুয়ত প্রাপ্ত হন। আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করেন। পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে ১৫ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সংলগ্ন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে মঙ্গলবার, ২৫ আগষ্ট রাতে তিনি এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ঈদে মিলাদুন্নবী সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়। আল্লাহ বলেন, রাসুলে করিম (সা.) হলেন ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’ অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। আজকের বিশ্বে হিংসা, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, উগ্রতা, মিথ্যা ও নৈতিক অবক্ষয়ের যে বিস্তার ঘটছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।”
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
এ উপলক্ষে বরিশালসহ সারাদেশে সরকারি নানা কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরী ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং সড়কগুলো কালিমা তাইয়্যিবাসহ নানা ব্যানার ও জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সারাদেশে সরকারি ছুটি থাকবে এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ দিনটিতে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ, ইসলামের শান্তি, সহিষ্ণুতা ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণীর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটি পালনে সারাদেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার উদ্যোগে পৃথক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বরিশালসহ দেশের ছোট-বড় সকল মসজিদে মহানবীর জীবন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন