বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ পিএম আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ পিএম

ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার, ৩ জুলাই বিদেশি অতিথিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মুসল্লায় রাখা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এসে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই তার জন্মস্থান উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কে ছিলেন?
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক নেতা ছিলেন খোমেনি। অন্যদিকে সেই বিপ্লবের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খামেনি।
খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হয়েছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তার শাসনামলের শুরুতেই এত বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখনও প্রকাশ্যে আসেননি।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শিয়া শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রাক্কালে রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেন। পাশাপাশি বহির্বিশ্বের হুমকি মোকাবিলায় একটি উন্নত প্রতিরক্ষা কৌশল প্রতিষ্ঠা করেন। তার শাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় অর্থনৈতিক দুর্দশাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশব্যাপী অস্থিরতায় রূপ নেয়। পরে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন।

দাফন প্রক্রিয়া কেন বিলম্বিত হচ্ছে
খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর তার দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসলামী সংস্কৃতি অনুযায়ী এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এই বিলম্ব তার মৃত্যুর পর ইরানের সম্মুখীন হওয়া অসাধারণ পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের তীব্র ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই দাফন বিলম্বিত হয়েছে। খামেনির মরদেহ ধর্মীয় বিধান মেনেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডক্টর মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, খামেনির মরদেহ প্রায় নিশ্চিতভাবেই হিমায়িত শীতল সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছিল। এতে কোনো ধরনের এমবামিং করা হয়নি, কারণ ইসলাম ধর্মে রাসায়নিক এমবামিং নিষিদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, শিয়া আইন ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে দাফনে বিলম্ব এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি দেয়। ইরানের ফরেনসিক মর্গে এমনিতেই মরদেহ কয়েক মাস পর্যন্ত রাখা হয়। তাই চার মাস সংরক্ষণ করে রাখাটা অস্বাভাবিক নয়।
সূত্র: এনডিটিভ
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন