বরিশাল নিউজ
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

সড়কে থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ে বিরোধে চরকাউয়া টার্মিনালের ছয় রুটে বাস বন্ধ। বাস শ্রমিকদের দাবি, অটোর কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া বাস টার্মিনালে রবিবার, ১ নভেম্বর বাস ও অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ বাধে। বাস মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, থ্রি-হুইলারের কারণে বাস দুর্ঘটনায় পড়ছে। তাদের ভাষ্য, বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলায় ঝুঁকিও বাড়ছে। তারা সড়ক থেকে থ্রি-হুইলার সরানোর দাবি তোলেন। বাস শ্রমিকদের বক্তব্য, ওই রুটে অটোরিকশা অবৈধ।
দুই পক্ষের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাস শ্রমিকরা কয়েকটি অটোরিকশা ভেঙে খালে ফেলে দেন। অটোচালকদের দাবি, ১৫-২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর হয়েছে। এর প্রতিবাদে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বাস আটকে দেন। লাহার হাট প্রান্তে চলছে তাদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন।
অটোচালকদের পাল্টা অভিযোগ, চরকাউয়া বাস মালিক সমিতিই অবৈধ। তাদের দাবি, এখানে ফিটনেসবিহীন বাস চলছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা অভ্যন্তরীণ সড়কে যাত্রী নেয়, আর বাস শ্রমিকরা তাতে বাধা দেন। বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা বাসের পাহারায়ও লোক বসিয়েছেন তারা। তাদের ভাষ্য, বাস ক্ষতিগ্রস্ত করে যাতে অটোচালকদের দোষ দেওয়া না যায়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা।
আন্দোলনরত চালকদের লিখিত পাঁচ দফা দাবিতে রয়েছে চরকাউয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি, জিরো পয়েন্ট খোলা রাখা এবং হয়রানি বন্ধ। ভাঙচুর ও মারধরের সমাধান এবং বাসের আঘাতে ক্ষতির ক্ষতিপূরণও চান তারা।
বাস মালিক সমিতির সভাপতি মামুন খন্দকার জানান, বাস চালানোর চেষ্টা করলেও অটোচালকরা বাধা দিচ্ছেন। সমাধানে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান। না হলে সংকট দীর্ঘ হতে পারে বলে তার আশঙ্কা।
টার্মিনাল থেকে ডিসি রোড, লক্ষ্মীপাশা, লাহার হাট, কাঁটাদিয়া, হলতা ও সিদ্দিক বাজার রুটে প্রায় ৭০টি বাস চলে। প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী এসব বাসে যাতায়াত করেন। এখন অনেকে মোটরসাইকেল ও রিকশায় ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছেন। বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুর রহমান জানান, রবিবার রাত থেকে রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন