Advertise top
বিদেশ

নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, প্রতিক্রিয়া ঢাকায়

বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২২ এএম    

নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, প্রতিক্রিয়া ঢাকায়
নিউইয়র্কে প্রবাসীদের স্লোগানের সময়  ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে স্লোগান দিয়েছেন প্রবাসীরা। ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সরকার ও একাধিক দল।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে দোহা থেকে সোমবার, ১২ অক্টোবর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনাল থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাকে ঘিরে স্লোগান দেন। সঙ্গে ছিলেন ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদ।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনকে ইউনূসকে সন্ত্রাসী বলতে শোনা যায়। তারা কেন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, তা-ও জানতে চান। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস ও মানুষ হত্যার অভিযোগও তোলেন তারা। গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিকেল পৌনে চারটার দিকে বিমানবন্দর ছাড়ার সময় ঘটনাটি ঘটে।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মী ও সহযোগীদের বেষ্টনীতে একজন ব্যক্তি হুইলচেয়ার ঠেলে ইউনূসকে সামনে নিয়ে যাচ্ছেন। টিবিএস জানায়, এ সময় তাকে শান্ত দেখা গেছে। ইউনূস বা তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আমাদের নজরে আসেনি।

 

ঘটনার দিন নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে অমিল আছে। ইউনুস সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম সম্পাদিত ডানপন্থী পত্রিকা ডেইলি ওয়াদার একটি প্রতিবেদনে ঘটনা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ঘটেছে বলে উল্লেখ আছে। তবে বাংলা সংবাদমাধ্যমের বেশির ভাগ প্রতিবেদনে সোমবার, ১২ অক্টোবরের কথা বলা হয়েছে। টিবিএস জানায়, তারা সঠিক তারিখ ও সময় স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

 

প্রথম দিকের প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের পরিচয় নিশ্চিত ছিল না। পরে ফ্যাক্ট-চেক উদ্যোগ বাংলা ফ্যাক্টের বরাতে ডেইলি ওয়াদা জানায়, ভিডিওতে সামনে থাকতে দেখা যাওয়া ব্যক্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নিউইয়র্ক মেট্রোপলিটন শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী। আরেকজনকে যুবলীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য আমাদের নজরে আসেনি।

 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি ঘটনাটিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বলে বর্ণনা করেন। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

 

জাহেদ উর রহমান বলেন, গত মাসে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার পর যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এ ক্ষেত্রেও একই পথে হাঁটা হবে। ইউনূসকে দেওয়া প্রটোকল ও মর্যাদায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুশোচনা নেই এবং তারা হুমকি দিচ্ছেন। তাই দলটির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার নিন্দা জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক আলামতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী এতে জড়িত ছিল। মন্ত্রণালয়ের মতে, ঘটনায় বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয় বলেন। তার মতে, এতে শুধু ইউনূস নন, দেশ ও নাগরিকদেরও অসম্মান করা হয়েছে। বিদেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এক বিবৃতিতে ঘটনাকে রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাস বলে অভিহিত করে। দলটি জড়িত পলাতক নেতাকর্মীদের বিচারের দাবি জানায়। রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিচারেরও দাবি তোলে তারা। সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পৃথক বিবৃতিতে বলেন, এ ঘটনা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির চরিত্র আবার প্রকাশ করেছে।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সরকারের কাছে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী নাবিলা ইদ্রিস নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দলগত বিচার শুরুর দাবি করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ১২ জন উপদেষ্টা যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ফেসবুকে লেখেন, হুইলচেয়ারে বসা একজন মানুষকে ঘিরে এমন আচরণে ইউনূসের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় না।

 

লেখক এস এম রেজাউল করিম মনু মনে করেন, এ ঘটনার পর ইউনূসের সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষক নায়েল রহমান ইউনূসকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার বাইরের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বলে বর্ণনা করেন।

 

প্রথম আলোর কলামিস্ট নাদিম মাহমুদ ঘটনাটিকে লজ্জাজনক বলেন। একই সঙ্গে তিনি একে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গড়ে ওঠা মব সংস্কৃতির সম্প্রসারণ হিসেবে দেখেন বলে ডেইলি ওয়াদার প্রতিবেদনে এসেছে।

 

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আমরা নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে দেখিনি। তবে দলটির সমর্থক ও সহানুভূতিশীলদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ডেইলি ওয়াদার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে দলটির নেতা হিসেবে পরিচিত স্বপ্নিল খান ঘটনাকে ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বলে বর্ণনা করেন।

 

অভিনেত্রী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেত্রী রোকেয়া প্রাচী দাবি করেন, প্রবাসীরা নিউইয়র্কে ইউনূসকে আটক করেছেন। তিনি ইউনূসের বিরুদ্ধে শিশু ও পুলিশ হত্যার অভিযোগও তোলেন। আমরা যেসব প্রতিবেদন দেখেছি, তার কোনোটিতে আটকের তথ্য নেই। কয়েকজন সাংবাদিক ও ব্যবহারকারী উপহাসমূলক মন্তব্য করেছেন। ডেইলি ওয়াদা জানায়, কিছু মন্তব্যে ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল এবং একটিতে শারীরিক আক্রমণের আহ্বান ছিল।

 

ইউনূস গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছালে একই বিমানবন্দরে প্রবাসী নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। এএনআই জানায়, তখন তার সফরসঙ্গী এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের দিকে ডিম ছোড়া হয়েছিল। ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম সে সময় ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেছিলেন।

 


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal