বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

ভুয়া নথির মাধ্যমে সমকামী পরিচয়ে আশ্রয়ের আবেদনে সহায়তার অভিযোগে লন্ডনে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর সকালে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিবাসন কর্মকর্তারা অভিযান চালান। লন্ডনের বিভিন্ন ঠিকানা থেকে প্রথমে দুজনকে ধরা হয়। জালিয়াতি ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিনই পরে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহে তৃতীয় আরেকজনকে ধরা হয়।
অভিযানে ফোন, অলংকার ও হাজার হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের ধারণা, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কয়েক ডজন বাংলাদেশি পুরুষের আশ্রয় আবেদনে সহায়তা করেছেন। ওই আবেদনকারীরা দাবি করেছিলেন, দেশে ফিরলে তাদের প্রাণের ঝুঁকি আছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাজানো ছবি ও জাল নথি তৈরির জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হতো।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, এ অভিযান পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক ‘আপনজন’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ভুয়া আবেদনের ভিত্তিতে হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনটির প্যাডে সমর্থনসূচক চিঠি দেওয়া হতো। আবেদনকারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক আছে বলে দাবি করা ব্যক্তিদের সই করা মিথ্যা চিঠিও এর মধ্যে ছিল।
কয়েক মাস ধরে তদন্ত চালায় অভিবাসন কর্মকর্তারা। কিছু আবেদনে একই ধরনের মিল দেখে তাদের সন্দেহ জাগে। ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত শতাধিক আবেদন এখন পর্যালোচনা করছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফস্টারের ভাষ্য, অভিবাসন বিচারকেরা আগেও এই সংগঠনের দেওয়া সাক্ষ্যপ্রমাণকে অবিশ্বাস্য বলে সমালোচনা করেছেন।
এপ্রিলে প্রকাশিত বিবিসির এক অনুসন্ধানে একই ধরনের কৌশলের তথ্য উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে মে মাসে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “যারা নিপীড়নের ভান করে, তারা ঘৃণারও অযোগ্য।” প্রকৃত সুরক্ষাপ্রার্থীদের জন্যও এটি অপমানজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে, আশ্রয় জালিয়াতিতে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন