বরিশাল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

মানুষের জৈবিক বয়স বাড়ার গতি কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন পদ্ধতি ও ওষুধের মাধ্যমে ধীর করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি নতুন সমীক্ষা। তবে বাজারে প্রচলিত ওভার-দ্য-কাউন্টার পরিপূরকে (সাপ্লিমেন্ট) এমন কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি বলেও সমীক্ষায় উঠে এসেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার মেডিসিন-এ।
এপিজেনেটিক ক্লক কী
মেডিকেল নিউজ টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের জৈবিক বয়স নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয় রক্তের নির্দিষ্ট কিছু বায়োমার্কার, যাকে বলা হয় এপিজেনেটিক ক্লক। ডিএনএ-র সঙ্গে যুক্ত মিথাইল গ্রুপের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে এই বায়োমার্কারগুলো নির্ণয় করা হয়, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মিথাইলেশন প্যাটার্নে পরিবর্তন আসে বলে আগের গবেষণাগুলোতেও দেখা গেছে।
নতুন সমীক্ষায় গবেষকেরা ৫১টি দীর্ঘমেয়াদি হস্তক্ষেপ-সংক্রান্ত গবেষণার তথ্য একত্র করেছেন এবং ১৬টি এপিজেনেটিক ক্লক ও অতিরিক্ত ৯৪টি ডিএনএ মিথাইলেশন বায়োমার্কার একই মানদণ্ডে বিশ্লেষণ করেছেন।
কী কী প্রভাব ফেলেছে
মেডিকেল নিউজ টুডে-র প্রতিবেদনে বলা হয়, সমীক্ষায় দুটি জীবনযাপন-সংক্রান্ত হস্তক্ষেপে এপিজেনেটিক বয়স কমার প্রমাণ মিলেছে—নিয়মিত ব্যায়াম এবং ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের (মেডিটেরিয়ান), স্বল্প-শর্করা বা স্বল্প-চর্বিযুক্ত সুষম খাদ্যাভ্যাস।
সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা গেছে কয়েকটি নির্দিষ্ট ওষুধের ক্ষেত্রে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত মেটফরমিন, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত জিএলপি-১ জাতীয় ওষুধ সেমাগ্লুটাইড এবং প্রদাহনাশক অ্যান্টি-টিএনএফ থেরাপি—এই তিনটি ওষুধ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সবক'টি এপিজেনেটিক ক্লক বায়োমার্কারেই বয়স কমার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।
গবেষণার একজন সহলেখক এবং ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক রাঘব সেহগাল মেডিকেল নিউজ টুডে-কে জানান, ওষুধ প্রয়োগে পরিবর্তনগুলো আশাব্যঞ্জক হলেও তা নিশ্চিত প্রমাণ নয় যে ওষুধগুলো সরাসরি বার্ধক্য কমাচ্ছে। বায়োমার্কার পরিবর্তন প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘমেয়াদে সুস্বাস্থ্য বা দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা, তা যাচাইয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা এখনও প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিপূরকে কার্যকারিতার প্রমাণ মেলেনি
লন্ডন রিজেনারেটিভ ইনস্টিটিউটের চিফ লংজিভিটি অফিসার সেবনেম উনলুইশলার, যিনি এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না, মেডিকেল নিউজ টুডে-কে জানান, সমীক্ষায় ৫১টি গবেষণার তথ্য একই পদ্ধতিতে যাচাই করার কারণে বিভিন্ন হস্তক্ষেপের তুলনামূলক চিত্র পাওয়া সহজ হয়েছে। তিনি জানান, মৃত্যুঝুঁকি বা বার্ধক্যের গতি পূর্বাভাসে প্রশিক্ষিত নতুন প্রজন্মের বায়োমার্কারগুলো তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীলভাবে সাড়া দিয়েছে।
সেহগাল আরও জানান, সাধারণ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ওভার-দ্য-কাউন্টার পরিপূরকের সপক্ষে প্রমাণ সীমিত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে নির্দিষ্ট পুষ্টি-ঘাটতি বা চিকিৎসাগত প্রয়োজনে পরিপূরক উপকারী হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ওষুধ শুধু বার্ধক্য ঠেকাতে নেওয়ার পরামর্শ নয়
উনলুইশলার সতর্ক করে বলেন, মেটফরমিন, সেমাগ্লুটাইড বা অ্যান্টি-টিএনএফ থেরাপির ফলাফল বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অর্থ এই নয় যে সুস্থ মানুষের শুধু বার্ধক্য ঠেকাতে এসব ওষুধ গ্রহণ করা উচিত। তিনি জানান, গবেষণার কিছু অংশে অংশগ্রহণকারীরা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ছিলেন, ফলে পর্যবেক্ষিত পরিবর্তন রোগ বা প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের প্রভাবও হতে পারে, সরাসরি বার্ধক্য বিপরীতমুখী হওয়ার প্রমাণ নয়।
সুস্থভাবে বার্ধক্য মোকাবিলায় করণীয়
সেহগাল ও উনলুইশলার উভয়েই একমত যে মানুষের বার্ধক্য ব্যাপকভাবে ধীর করার মতো একক কোনো প্রমাণিত পদ্ধতি এখনো নেই। তবে তাঁদের পরামর্শ—
উনলুইশলার জানান, নিয়মিত এরোবিক ও রেজিস্ট্যান্স ব্যায়াম, ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের সুষম খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম দীর্ঘমেয়াদে বিপাকীয়, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক।
গবেষকেরা জানান, এপিজেনেটিক বায়োমার্কারে পরিবর্তন আসা মানেই কোনো হস্তক্ষেপ বার্ধক্য কমাচ্ছে—এমন প্রমাণ নয়; বরং এসব পরিবর্তন প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য ও আয়ুষ্কালের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা, তা যাচাই করাই এখন গবেষকদের সামনের চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: Medical News Today (Healthline Media)
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন