বরিশাল নিউজ, ভোলা ও বরগুনা
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ২৯ অক্টোবর। ভোলা ও বরগুনায় জেলেরা জাল-ট্রলার প্রস্তুত করে নামার অপেক্ষায়।
ভোলায় মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবদর, বেতুয়া, বুড়াগৌরাঙ্গ ও ইলিশা নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। জেলার প্রায় তিন লাখ জেলে এখন নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাত উপজেলায় সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার। বেসরকারি হিসাবে সংখ্যাটি প্রায় তিন লাখ।
ভোলা সদরের তুলাতলী মাছঘাটের জেলেপল্লিতে কেউ নতুন জাল কিনছেন। কেউ পুরোনো জাল, নৌকা ও ট্রলার মেরামত করছেন। জেলে কামাল ও খোকন জানান, ২৯ অক্টোবর রাত ১২টার পর তারা নদীতে নামবেন। ধারদেনা করে তারা নতুন জাল কিনেছেন ও ট্রলার মেরামত করেছেন।
তাদের আশঙ্কা, আশানুরূপ ইলিশ না মিললে গত বছরের মতো এবারও কষ্টে দিন কাটাতে হবে। দেনা শোধ করতে না পারলে পালিয়ে বেড়াতে হতে পারে বলেও তারা জানান।
ভোলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২৯৭টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে ৮০ জনের কারাদণ্ড হয়েছে। জরিমানা আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা। জব্দ হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৬৩ মেট্রিক টন ইলিশ ও ৯ কোটি ৯২ লাখ মিটার জাল।
তিনি আশা করেন, নিষেধাজ্ঞার ফলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ পাবেন বলেও তার প্রত্যাশা।
বরগুনার হাজারো জেলেও সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাছঘাটে কেউ জাল সারাই করছেন, কেউ ট্রলার গোছাচ্ছেন। আয় বন্ধ থাকায় অনেককে সংসার চালাতে ধারদেনা করতে হয়েছে।
‘আল্লাহ ভরসা’ ট্রলারের মাঝি ছগির হোসেন বলেন, “নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরতে পারিনি। এ সময়ে সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।”
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় নিবন্ধিত জেলে ৫২ হাজার ৪৭৬ জন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৬৯ জনকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। তবে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন উপকূলের অনেক জেলে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ভারতীয় জেলেদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তার ভাষ্য, বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞা থাকার সময় ভারতীয় জেলেরা অবাধে মাছ ধরলে ক্ষতিগ্রস্ত হন বাংলাদেশের জেলেরা। এতে দেশের মৎস্যসম্পদও হুমকিতে পড়ে।
বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন জানান, সহায়তার চালের পরিমাণ বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন