বরিশাল নিউজ
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

বাংলার আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২২ অক্টোবর। ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর ভারতের কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর সাত দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, নিঃসঙ্গতা, স্মৃতি ও মানবজীবনের গভীর অনুভব আজও পাঠককে টানে, নাড়া দেয়। নিজস্ব কাব্যভাষা, চিত্রকল্প ও দর্শন নির্মাণ করে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন তিনি।
১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালের মা কবি কুশুম কুমারীর গর্ভে জন্ম নেন জীবনানন্দ দাশ।
কবি জীবনানন্দ দাশের শিক্ষা জীবন।
জীবনানন্দ দাশ এর লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয় ১৯০৮ সালে বর্তমান বরিশাল নগরীর ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে। তিনি ১৯১৫ সালে ব্রজমোহন বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯১৭ সালে ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন ১৯১৯ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২১ সালে এম. এ ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি আইন কলেজ ভর্তি হলেও তা সঙ্গত কারণে শেষ করতে পারেননি।
কবি জীবনানন্দ দাশের কর্মজীবন
কবি জীবনানন্দ দাশের কর্মজীবন শুরু হয় কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯২২ সালে তিনি কলকাতা সিটি কলেজে চাকরি নেন। এরপর তিনি চলে আসে বরিশালে। ১৯২৯ সালে যোগ দেন বাগেরহাটের প্রফুল্লচন্দ্র কলেজে। একই বছর চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি দিল্লি চলে যান। সেখানে রামযশ কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৩০ সালে জীবনানন্দ দাশ আবার দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে তিনি আর কোনো চাকরি পাননি। কিছু বছর বেকার জীবন অতিবাহিত করেছিলেন।
জীবনানন্দ দাশ ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৯ মে (বঙ্গাব্দ ১৩৩৭, ২৬ বৈশাখ) ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ মন্দিরে রোহিণীকুমার গুপ্তের কন্যা লাবণ্য গুপ্তকে বিয়ে করেন। তাদের কন্যা মঞ্জুশ্রী দাশ এবং পুত্র সমরানন্দ দাশ।
১৯৩৫ সালে তিনি বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে তিনি কলকাতা চলে যান।১৯৫৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি হাওড়া গার্লস কলেজ কর্মরত ছিলেন।
কবি জীবনে অনেক অর্থকষ্টে ভুগেছেন। চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তিনি চাকরির মাঝে বিভিন্ন পেশা, এমনকি ব্যবসার ও চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী লাবণ্য দাশ স্কুলে শিক্ষকতা করে সংসারের অভাব কমানোর চেষ্টা করেছিলেন।
জীবদ্দশায় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ
ঝরাপালক (১৯২৭)(প্রথম কবিতার বই)
ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬)
বনলতা সেন (১৯৪২)
মহাপৃথিবী (১৯৪৪)
সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
মৃত্যুপরবর্তী প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ
রূপসী বাংলা (রচনাকাল ১৯৩৪, প্রকাশকাল ১৯৫৭)
বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১)
সুদর্শনা (১৯৭৩)
আলো পৃথিবী (১৯৮১)
মনবিহঙ্গম (১৯৭৯)
অপ্রকাশিত একান্ন (১৯৯৯)
জীবনানন্দ দাশের কবিতায় নদী, ঘাস, সমুদ্র, নক্ষত্র, আকাশ, ইতিহাস ইত্যাদি নস্টালজিয়া বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে। তিনি কবিতায় চিত্রকল্পের ব্যবহার করেছেন।
উপন্যাস
জীবনানন্দ দাশ জীবনে অসংখ্য উপন্যাস লিখেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে তিনি বেচে থাকতে একটা উপন্যাস ও প্রকাশিত হয়নি।তিনি মারা যাওয়ার পরে তার কিছু পান্ডুলিপি থেকে এসব উপন্যাস প্রকাশ করা হয়েছে। তার উপন্যাসগুলো হলো:
মাল্যবান
সুতীর্থ
জলপাইহাটি
জীবনপ্রণালী
কারুবাসনা
বাসমতীর উপাখ্যান
মৃণাল
বিলাস
চারজন
ছোটগল্প
জীবনানন্দ দাশ উপন্যাসের সাথে ছোটগল্পও লিখেছেন কিন্তু তিনি বেঁচে থাকতে তা প্রকাশিত হয়নি। তার ছোট গল্পের সংখ্যা শতাধিক। তাঁর বিখ্যাত কিছু ছোটগল্পগুলো:
মহিন
আখ্যান
ছেঁড়া চুল
মেয়েমানুষ
ছায়াপ্রিয়
রক্তমাংস
কুয়াশার ভিতর মৃত্যুর সময়
সমাবর্তন
যীশু
কাক এবং
বিলের ধারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন