বরিশাল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ আগষ্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রস্তাবিত রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে আজ শনিবার, ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সওজ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুটটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এই রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার এই উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন সড়ক নির্মাণ এবং তিনটি ছোট সেতু নির্মাণ করতে হবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা দ্রুত যাচাই করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশাল, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ— দুটিই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নদীবেষ্টিত হওয়ায় ভোলার মানুষের যোগাযোগে দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। নতুন সড়ক সংযোগ তৈরি হলে সেই নির্ভরতা কমবে।
সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটের বড় সুবিধা হলো দূরত্ব, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়।
বিশেষ করে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগে এটি একটি কার্যকর বিকল্প পথ হয়ে উঠতে পারে।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এই সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রথম শুরু হয় ২০১৩ সালে, পরে তা ২০২০ ও ২০২৪ সালে আবার যাচাই করা হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সেতু বিভাগের তৎকালীন সচিব বেলায়েত হোসেন জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে সাড়ে নয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।
এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ ভোলা সফরে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কোনো বড় সেতু হলে তা ভোলা-বরিশাল সেতুই হবে, এবং একই মাসে গণমাধ্যমে খবর আসে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেই নির্মাণকাজ শুরু হবে।
তবে এপ্রিলে মিলেছে নীতিগত অনুমোদন। নভেম্বরে রাজধানীর শাহবাগে সেতু নির্মাণসহ পাঁচ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন ভোলার বাসিন্দারা, আর তার আগে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা ডিসেম্বরে বাবুগঞ্জে বলেছিলেন, ভোলা সেতু বাস্তবায়ন করবে "আগামী সরকার।"
সূত্র: বাসস
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন