Advertise top
স্পেশাল

কাশের শুভ্রতায় সেজেছে ভোলা

শরীফ হোসাইন, বরিশাল নিউজ, ভোলা 

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম    

কাশের শুভ্রতায় সেজেছে ভোলা
ভোলার শিবপুর ইউনিয়নের বালুর মাঠে ফুটেছে কাশফুল। বরিশাল নিউজ ডটকম

নীল আকাশের নিচে নদীর পাড়ে দুলছে কাশের সাদা ঝাড়। শরতের এই দৃশ্য দেখতে ভোলার বিভিন্ন স্থানে ভিড় করছেন মানুষ।

 

ঋতুচক্রের হিসাবে ভাদ্র ও আশ্বিন মাস জুড়ে থাকে শরৎকাল। বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর আকাশে এখন সাদা মেঘের আনাগোনা। প্রকৃতিতে এই ঋতুর আসার খবর সবার আগে দেয় কাশফুল।

 

পালকের মতো নরম এই ফুল বাতাসে দুলতে থাকে। নীল আকাশের নিচে সেই দৃশ্য দেখে মনে হয়, সাদা পোশাকে নাচছে একদল শিল্পী। বাংলা সাহিত্যেও শরৎ ও কাশফুলের উপস্থিতি বহু পুরোনো।

 

কোথায় ফুটেছে কাশ

ভোলার কয়েকটি এলাকায় এবার প্রচুর কাশফুল ফুটেছে। এর মধ্যে আছে শিবপুর ইউনিয়নের বালুর মাঠ, যা “গরীবের দুবাই” নামে পরিচিত। খেয়াঘাট এলাকায় কাজী ফিডের পাশে, চরনোয়াবাদে ও মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর তীরেও কাশের ঝাড় দেখা গেছে। বোরহানউদ্দিন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশেও ফুটেছে ফুল।

 

কাশবনে মানুষের ভিড়

কাশের এই মাঠে সময় কাটাতে আসছেন নানা বয়সের মানুষ। প্রেমিক-প্রেমিকা ও পরিবার, দুই দলই আছে। জসিম-হাসনা ও লিটন-রাবেয়া দম্পতি বরিশাল নিউজ ডটকমকে জানান, ব্যস্ততার ফাঁকে এখানে এলে মনে প্রশান্তি আসে।

 

গৃহবধূ রাবেয়া বেগম সোমবার, ৫ অক্টোবর বিকেলে সন্তানকে নিয়ে কাশের মাঠে ঘুরতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা এখন অনেকটাই যান্ত্রিক হয়ে গেছি। আনন্দ-বিনোদন ভুলে যাচ্ছি।” তাঁর কথা, সময় বের না করলে কাজের চাপে একদিন হারিয়ে যেতে হবে।

 

আরেক গৃহবধূ খায়রুন নেছা জানান, সংসারের কাজে ঘোরার সময় মেলে কম। তবু সন্তানদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতে এসেছেন। তিনি বলেন, “কাশফুলের মুগ্ধতায় নিজেকে হারাতে কার না ভালো লাগে?”

 

কাশবনে আনন্দে মেতে থাকতে দেখা যায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওবায়েদ উল্লাহকে। সে বলেন, “বইয়ে শরৎ ও কাশফুলের কথা পড়েছি। আজ বাবা-মায়ের সঙ্গে সরাসরি দেখতে এলাম।” তাঁর ভাষ্য, কাশের মাঠে ঘুরতে খুব ভালো লাগছে।

 

কাশের কথা

কাশফুল ছন গোত্রের এক ধরনের ঘাস। গাছ সাধারণত তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। চিরল পাতার দুই পাশ বেশ ধারালো।

 

নদীর তীর, জলাভূমি, চর কিংবা উঁচু জমিতে কাশ জন্মায়। নদীর পলিমাটিতে এর শিকড় সহজে ছড়ায়, তাই নদীর পাড়েই ঝাড় বেশি দেখা যায়।

 

আগাছা হিসেবে গণ্য হলেও শুকনো কাশের ব্যবহার আছে। গ্রামের নারীরা কাশ দিয়ে ঝাঁটা, ডালি ও মাদুর বানান। ঘরের চাল, বেড়া ও কৃষকের মাথাল তৈরিতেও এটি কাজে লাগে।

 

গ্রামবাংলায় বিশ্বাস করা হয়, কাশফুল মনের কালিমা দূর করে। তাই শুভ কাজে এর পাতা বা ফুল ব্যবহার করা হয়।


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal