Advertise top
প্রবাস

লাওসে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ চার মাসের জন্য স্থগিত

বরিশাল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম    

লাওসে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ চার মাসের জন্য স্থগিত
লাওসে বাংলাদেশি শ্রমিকরা মূলত নির্মাণ খাতে কাজ করেন। প্রতীকী

লাওস বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রমিক নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট ও প্রবেশ ভিসা ইস্যু স্থগিত রেখেছে লাওস। স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, অর্থাৎ চার মাস কার্যকর থাকবে।

 

মন্ত্রণালয় ২৮ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৯ সেপ্টেম্বর নির্দেশনা দিয়েছে। এর আওতায় শ্রমিক শ্রেণির এলএ-বি২ ভিসা ইস্যুও স্থগিত।

 

মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই স্থগিতাদেশ মেনে চলতে অনুরোধ করেছে। লাওসে যেতে আগ্রহীদের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দিতে এবং আর্থিক লেনদেন না করতেও বলা হয়েছে। মেয়াদ শেষে কী হবে, তা জানায়নি মন্ত্রণালয়।

 

কারণ স্পষ্ট নয়

বিজ্ঞপ্তিতে কারণ উল্লেখ নেই। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিবিসি বাংলাকে জানান, সুনির্দিষ্ট কারণ লাওস জানায়নি। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে বলছি, এখনও আমাদেরকে আপডেট জানায়নি।’ লাওসে বাংলাদেশের দূতাবাস নেই বলেও জানান তিনি।

 

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লাওসে বাংলাদেশি শ্রমিকরা মূলত নির্মাণ কোম্পানিতে কাজ করেন। অনেক কোম্পানিতে কাজ কমেছে। সে কারণেই দেশটি এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

 

লাওসের পত্রিকার তথ্য

দ্য লাওসিয়ান টাইমস ১৪ সেপ্টেম্বর লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আদেশের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, অবৈধ প্রবেশ, মানব পাচার ও অননুমোদিত শ্রমিক সরবরাহকারীদের নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশিদের নির্দিষ্ট করে কেন এ নির্দেশ, তার সুস্পষ্ট কারণ আদেশে নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি বা নিয়োগদাতা এখন নিজে থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশ বা কর্মসংস্থানের অনুমতি দিতে পারবেন না। চুক্তিতে কাজের সময়সূচি নির্ধারিত থাকা, লাওস সরকারের অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে।

 

জরিমানা ও শাস্তি

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বিধানগুলো:

 

  • অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক আনলে বা নিয়োগ দিলে নিয়োগদাতাকে প্রতি ঘটনায় শ্রমিকপ্রতি ২৫ লাখ লাও কিপ (১১০ মার্কিন ডলার) জরিমানা। অন্য শ্রমিক ইউনিটে নিয়োগের জন্য আনলেও একই জরিমানা।
  • অন্য ইউনিটের জন্য নির্ধারিত শ্রমিককে কাজে লাগালে বা নিলে শ্রমিকপ্রতি ২০ লাখ লাও কিপ (৮৯ মার্কিন ডলার) জরিমানা।
  • অনুমোদনহীন কর্মস্থলে কাজ করলে শ্রমিকের জরিমানা প্রতি ঘটনায় ১০ লাখ লাও কিপ (৪৪ মার্কিন ডলার)। তাঁকে ৩০ দিনের মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
  • একই অপরাধ আবার করলে জরিমানা হবে তিন গুণ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থার কথাও প্রতিবেদনে আছে।

 

প্রতারণা ও যাচাই

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, লাওস ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে বাংলাদেশি কর্মীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাই এসব দেশে কর্মী পাঠাতে নথি জোরালোভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ভুয়া কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে চাহিদাপত্র এনেছে। অথচ সেখানে প্রকৃত কাজ নেই।

 

কতজন কর্মী যান

বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ৩০০০ বাংলাদেশি কর্মী লাওস যেতে ছাড়পত্র নিয়েছেন। গত বছর নিয়েছিলেন ৩৮৩৫ জন। প্রতিমন্ত্রী অবশ্য দেশটিতে বর্তমান কর্মীর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি।

 


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal