Advertise top
বাংলাদেশ

বরিশাল সেনানিবাসের অবকাঠামো সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ

বরিশাল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম    

 বরিশাল সেনানিবাসের অবকাঠামো সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ
একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিআইডি

একনেক সভায় আজ ‘বরিশাল সেনানিবাস,বরিশাল স্থাপন-২য় পর্যায়” প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

 

বাংলাদেশ সচিবালয়ে  বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ৪৩টি ভবন ও স্থাপনা তৈরি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ২৬টি আবাসিক ভবন, ৭টি অনাবাসিক ভবন এবং আরও ১০টি বিভিন্ন অবকাঠামো।

 

এছাড়াও সেনানিবাসের যোগাযোগ ও অন্যান্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সড়ক, নালা, পানি সরবরাহ, পয়েন্ট নিষ্কাশন এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

 

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি: বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামোর পাশাপাশি এই প্রকল্পে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ম পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তর স্থাপন করা হয় বরিশালে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সেনানিবাসটি উদ্বোধন করেন।

 

দেশের ৩১ তম এই সেনানিবাসটির নাম ছিল ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস।’ ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমল থেকে এই সেনানিবাসের নাম পরিবর্তন করে "বরিশাল সেনানিবাস" রাখা হয়।

 

এর আগে প্রথম পর্যায়ে সেনানিবাসটিতে ৭টি অফিস ভবন, সেনাসদস্যদের জন্য ১৪টি আবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ১০টি অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল।

 

বরিশালে সেনানিবাস প্রতিষ্ঠার ঘোষণা: দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে এই প্রকল্পের সম্মতি দেন। ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি শীতকালীন মহড়া চলাকালীন এই সেনানিবাস স্থাপনের প্রথম ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

প্রকল্প অনুমোদন: বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা "ফোর্সেস গোল ২০৩০"-এর অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একনেক সভায় "শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল স্থাপন" শীর্ষক মূল প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এই সেনানিবাস স্থাপনে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১,৬৯৯ কোটি টাকা।

 

বরিশাল সেনানিবাসের অবস্থান: সেনানিবাসটি পায়রা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় এর ভৌগোলিক গুরুত্ব অনেক বেশি। এর উত্তর ও পশ্চিম দিক মূলত বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং দক্ষিণ দিকে পায়রা নদী পার হলেই পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলা শুরু হয়। নদী তীরবর্তী এবং কৌশলগত মহাসড়কের কাছাকাছি হওয়ায় যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই সেনানিবাস থেকে জলপথ ও স্থলপথ উভয় পথেই দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।

দ্রুত দুর্যোগ মোকাবিলা: বাংলাদেশের এই উপকূলীয় অঞ্চলটি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আগে বড় দুর্যোগে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাস (৫৫ পদাতিক ডিভিশন) থেকে সাহায্য আনতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ।


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal