বরিশাল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন (২য় পর্যায়) প্রকল্পটি পাস হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার একশত ৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে আজ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি চুড়ান্ত অনুমোদন দেয় একনেক। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি।
বরিশাল সেনানিবাস সম্প্রসারনসহ আজ একনেকে মোট এক লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১২টি প্রকল্প চুড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার সংস্থান করা হবে।
দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বরিশালের লেবুখালীতে বিদ্যমান সেনানিবাসকে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনায় রূপ দিতে সেনানিবাস সম্প্রসারনের এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ‘প্রকল্পটি লেবুখালীতে বিদ্যমান সেনানিবাস সম্প্রসারণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের সেনানিবাস প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০৩০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৩টি ভবন ও স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ২৬টি আবাসিক ভবন, সাতটি অনাবাসিক ভবন এবং আরও ১০টি অন্যান্য অবকাঠামো।
এ ছাড়া সড়ক, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, অগ্নিনির্বাপণ ও টেলিযোগাযোগ সুবিধা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামো, কম্পিউটার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধাও প্রকল্পের আওতায় থাকবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই সেনানিবাসে তিনটি পদাতিক ব্রিগেড, একটি আর্টিলারি ব্রিগেড এবং অন্যান্য ডিভিশন ও এরিয়া ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলে এই প্রকল্প প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেনাবাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের আবাসন সংকট কমানো এবং সেনানিবাসে প্রশাসনিক ও সামরিক কার্যক্রম আরও সুসংহত করতেও এটি সহায়ক হবে।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে ইতিমধ্যে সাতটি অফিস ভবন, সেনাসদস্যদের জন্য ১৪টি আবাসিক ভবন, ১২টি আবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ১০টি ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বরিশাল ও পটুয়াখালী বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে অঞ্চলটি ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ধরনের বড় দুর্যোগে অতীতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাস থেকে সহায়তা নিতে হতো। স্বাধীনতার পর থেকে যশোর সেনানিবাসে অবস্থিত ৫৫ পদাতিক ডিভিশন এ অঞ্চলের ২১টি জেলায় প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার দায়িত্ব পালন করে আসছে।
এই প্রেক্ষাপটে বরিশাল ও পটুয়াখালীর মাঝামাঝি পায়রা নদীর তীরে লেবুখালীতে সেনানিবাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় সরকারকরা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, এ অবস্থান দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনাসদস্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েনের সুযোগ তৈরি করবে।
পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, সম্প্রসারিত সেনানিবাসটি স্থানীয় জনগণের সুরক্ষা, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা এবং দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সরদার এম এ মুহিত এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন