Advertise top
আদালত-অপরাধ

বানারীপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট; হাইকোর্টের রুল

বরিশাল নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগষ্ট ২০২৬, ০৯:১০ পিএম       

বানারীপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট; হাইকোর্টের রুল
হাইকোট।ফাইল ছবি

বরিশালের বানারীপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একটি ভেকু ও বার্জ জব্দ করে নিলামে বিক্রির আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছেন পটুয়াখালীর চরপাড়া গ্রামের মো. হানিফ হাওলাদার।

 

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রেজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।

 

 একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ওই আদেশের আইনগত ভিত্তি জানতে চাওয়া হয়েছে। গত ২০ আগস্ট এ আদেশ দেন।

 

রিটে বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, বানারীপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আমিনুল ইসলাম ওরফে সাগর ফকির এবং মো. আনিসুর রহমানকে বিবাদী করা হয়েছে।

 

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ওই আদেশে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ ধারায় প্রো-ফরমা বিবাদী মো. আনিসুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭(২) ধারার বিধান অনুযায়ী জব্দ তালিকায় থাকা একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) ও একটি পল্টন জব্দ করে এবং তা স্পট নিলামে বিক্রির আদেশ দেওয়া হয়।

 

রিটকারী হানিফ হাওলাদারের দাবি, তিনি ভেকুটির মালিক এবং ভেকু ও বার্জ নিয়ে দেওয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশে আইনগত অসঙ্গতি রয়েছে। তার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে ভেকু ব্যবহারের প্রমাণ ছাড়াই তাকে দায়ী করে জরিমানা ও সম্পদ নিলামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে মো. আনিচুর রহমান দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে লোকজনের উপস্থিতি দেখে সেখানে যান। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, ভেকুটি বার্জের ওপর রাখা ছিল এবং সেটি দিয়ে কোনো কাজ করা হয়নি।

 

আনিচুর রহমানের অভিযোগ, তাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে প্রথমে এক লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়। পরে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়। তার দাবি, এর পরপরই প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের পল্টন এবং ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের ভেকু মাত্র ১৫ লাখ টাকা মূল্যে নিলামে তোলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সাগর ফকির ২০ লাখ টাকা দিয়ে পল্টন ও ভেকু নিলামে কিনেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: জগলুল মৃধা বলেন, আমার বালুর জাহাজ খালি এই ভেকুটি নিয়ে আসা হয়। ভেকুটি খালের পারেই নোঙ্গর করে রাখা ছিলো। কোন বালু বা মাটি কাটেনি। শুধু শুধু ভ্রামমাণ আদালত এসে জরিমানাসহ পল্টন ও ভেকুটি নিলামে ডাকেন।

 

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, ২৪ জুলাইয়ের ওই আদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে নিলামে বিক্রির বিষয়ে দেওয়া আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

 

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, রুলটি চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য ফেরতযোগ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে রেজিস্টার্ড ডাকসহ প্রচলিত প্রক্রিয়ায় বিবাদীদের নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়জেদুর রহমান হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।  তিনি বলেন, ২০০৯ সালের মোবাইল কোর্ট আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে রিটকারী মো. হানিফ হাওলাদার বলেন, ‘ভেকুর প্রকৃত নাম (৩২০ ডিএল) ও এমভি বার্জ ইনসাফ (রেজি নং এম ১৪১২৩) এবং দৈঘ্য প্রস্থ্য, পল্টনে থাকা মালামালের সূচিপত্র উল্লেখ না করেই নোঙ্গর করা অবস্থায় ভেকুর মালিক সন্দেহ করে মো. আনিচুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৪০ লাখ টাকার ভেকু মাত্র ১০ লাখ টাকা এবং দেড় কোটি টাকার পল্টনটি নাম মাত্র ৫ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গীয় উপস্থিত সাগর ফকির সবোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাত্র ২০ লাখ টাকায় ভেকু ও পল্টনটি কিনে নেয়। আমরা বিষয়টি স্থানীয় উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানালেও কোন প্রতিকার পাইনি। ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশের বৈধতার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।’


 


মন্তব্য লিখুন


সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬

Developed By NextBarisal