বরিশাল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে ফ্রিজের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের।
উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন রিসোর্টটিতে গত ১৭ অক্টোবর সকালে আগুন লাগে। এতে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। রিসোর্টের বড় অংশ পুড়ে যায়। আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
আগুনের সূত্রপাত
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এমন। নিচতলার একটি ফ্রিজে শর্টসার্কিট হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়লে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। গুদামে দাহ্য রাসায়নিক ছিল। তীব্র বাতাস ও কাঠের কাঠামোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়ায়। তবে কী রাসায়নিক ছিল, তা নিশ্চিত নয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রিমন ঘোষ বলেন, প্রকৃত কারণ জানতে আরও সময় লাগবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি।
প্রায় ২০ শতক জমির ওপর রিসোর্টটির মেঝে, দেয়াল ও সিঁড়ির বড় অংশ কাঠের ছিল। সড়কের দিকে গাছের খুঁটির ওপর রেস্তোরাঁর বর্ধিত অংশও ছিল। কাঠের কাঠামো আগুন ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অনুমোদন ও আসামি
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রিসোর্টের ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়েছিল। জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ছৈয়দ আলম জানান, গত ২২ জুলাই মালিক মো. তানভীর সুলতান মিয়ার নামে লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর মেয়াদ ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। ফি ও কর বাবদ আদায় হয় দুই হাজার টাকা।
তবে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল না বলে জানা গেছে। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল এবং দাহ্য পদার্থ রাখার অনুমতি ছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মামলার প্রধান আসামি তানভীর সুলতান মিয়া পলাতক। পুলিশের একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তিনি ইন্দোনেশিয়ায় আছেন। আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদসহ অন্যরাও আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে। সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো শুনানি হয়নি।
অতিথির সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন হিসাব
স্বজনদের ভাষ্য, ১৬ অক্টোবর রাতে নারী ও শিশুসহ ২১ জন পর্যটক রিসোর্টে ছিলেন। পরদিন ভোরে দুজন সৈকতে গেলে ১৯ জন থেকে যান। স্বজনদের হিসাবে ১০ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ছয়জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। দুজন লাফিয়ে প্রাণে বাঁচেন। আরও একজনের সন্ধান মিলছে না বলে তারা দাবি করেন।
ওসি আতিকুর রহমান বলেন, আটটি কক্ষে ১৯ জন অতিথি ছিলেন। ১০ জন মারা গেছেন, সাতজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, দুজন লাফিয়ে রক্ষা পেয়েছেন। এই ১৯ জনের বাইরে কেউ নিখোঁজ থাকার তথ্য তদন্তে মেলেনি। এ নিয়ে কোনো লিখিত দাবিও আসেনি।
জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বলেন, ১০টি লাশ উদ্ধারের পর একজন নিখোঁজের বিষয়টি সামনে আসে। ফায়ার সার্ভিস আবার তল্লাশি চালিয়েও কোনো লাশ পায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন