বরিশাল নিউজ
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে ফাঁসানোর জন্য নিজের বাবাকে হত্যা করা মামলায় ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশালের একটি আদালত।
মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো.সোহেল আহমেদ আজ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর আসামি পলাশ হাওলাদারের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা জানান দণ্ডপ্রাপ্ত পলাশ হাওলাদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দসাহ গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মামলার বরাতে বলেন, প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও এক বছর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন পলাশ। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে তুলতে গেলে তার বাবা আলী আকবর বাধা দেন এবং প্রথম স্ত্রীকে মর্যাদা দিয়ে ঘরে তোলার পরামর্শ দেন। এ নিয়ে বাবার সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় পলাশের।
পরবর্তীকালে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে পলাশের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার প্রথম স্ত্রী। সেই মামলায় ১৭ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন পলাশ। কারাগার থেকে বের হয়ে প্রথম স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন তিনি।
মামলায় বলা হয়,পরিকল্পনা অনুযায়ী,২০১০ সালের ২ মে রাতে পলাশ তার সহযোগীদের নিয়ে বাবাকে ঘরের বাইরে নিয়ে যান। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে মুখ ও হাত-পা বাঁধা এবং মাথায় গুরুতর জখম অবস্থায় আলী আকবরকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত আলী আকবরের বড় ছেলে শহীদ হাওলাদার বাদী হয়ে ছোট ভাই পলাশকে প্রধান আসামি করে উজিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ পলাশকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২০১১ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শেষে পলাশসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন উজিরপুর থানার তৎকালীন ওসি সুকুমার রায়।
আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পলাশকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।
অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন