বরিশাল নিউজ
প্রকাশ : ২৬ আগষ্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট এশিয়া এনার্জির তত্ত্বাবধানে পরিবেশ বিধ্বংসী উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে লাখো মানুষ রাস্তায় নামে। সেই প্রতিবাদ মিছিলে তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে শহিদ হন আমিন, সালেকীন ও তরিকুল। আহত হয় অর্ধ শতাধিক মানুষ। সেই দিনটি এরপর থেকে ফুলবাড়ি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ফুলবাড়ী কয়লাখনির বিরুদ্ধে আন্দোলন। ফুলবাড়ী, দিনাজপুর, আগস্ট, ২০০৬। ছবি সংগৃহীত
এরপর ফুলবাড়িসহ সারাদেশে গণপ্রতিরোধের মুখে ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট বিএনপি সরকার বাধ্য হয় আন্দোলনকারীদের সাত দফা দাবি মেনে নিয়ে ফুলবাড়ি চুক্তি স্বাক্ষর করতে। সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের চুক্তিতে বলা হয়, ফুলবাড়ীসহ বাংলাদেশের কোনো জায়গায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি করা হবে না, এশিয়া এনার্জির সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করা হবে এবং কোম্পানিকে এলাকা ত্যাগ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে হতাহত ফুলবাড়ীর আন্দোলনকারীরা। ফুলবাড়ী, দিনাজপুর,২৬ আগস্ট, ২০০৬। ছবি প্রথম আলোর সৌজন্
দিবসটি উপলক্ষ্যে বরিশালে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সমাবেশ ও শহিদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে। করা হয়েছে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল।
অশ্বিনী কুমার হল চত্ত্বরে বুধবার, ২৬ আগষ্ট সকাল ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। এতে সভাপতিত্ব করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বরিশাল জেলা শাখার সম্পাদক অধ্যাপক জলিলুর রহমান। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দাস।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক দুলাল মজুমদার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডাঃ মনীষা চক্রবর্ত্তী, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান খোকনসহ আরো অনেকে।
বক্তাদের দাবি, ফুলবাড়ির ঘটনার পরেও সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যাক্তিরা আবারও ফুলবাড়ি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছেন। তাদের ভাষায়,‘ ফুলবাড়ি চুক্তি বাস্তবায়ন না করে উলটো আবার এই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পাঁয়তারা শুধু শহিদের রক্তের সাথে বেইমানিই নয়, এটা সম্পূর্ণ গণবিরোধী অবস্থান।’
বক্তারা বলেন, ফুলবাড়িতে এশিয়া এনার্জির সাথে করা অসম চুক্তিতে একদিকে যেমন পরিবেশ বিধ্বংসী উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার কথা বলা হয়েছিল, আরেকদিকে এই চুক্তিতে ১০০ টাকার কয়লায় বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ হত ৬ টাকা আর ৯৪ টাকা যেত এশিয়া এনার্জির পকেটে। অপরদিকে এই কয়লা উত্তোলনের জন্য পানির স্তর সরাতে গেলে দিনাজপুরের চারটি উপজেলায় ৮০ থেকে ১২০ মিটার পানির স্তর নেমে যাবার সম্ভাবনা ছিল। এতে ধানের ভান্ডারখ্যাত দিনাজপুরে কৃষি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হত। ১ লক্ষ মানুষের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ হবার সম্ভাবনা ছিল। গবেষকদের তৎকালীন রিপোর্ট অনুযায়ী এই প্রকল্পের ফলে বাংলাদেশের ৫০ বছরে ২৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হত। এই দেশবিরোধী পরিবেশ বিধ্বংসী সর্বনাশা প্রকল্প করে এশিয়া এনার্জি বা জিসিএম কোম্পানি এবং তার দোসররা হয়তো লাভবান হবে, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এই প্রকল্প আত্মঘাতী।
বক্তারা শহিদের রক্তের সাথে বেইমানি করে এই দেশবিরোধী প্রকল্প পুনরায় চালু করার অপচেষ্টা থেকে সরকারকে অবিলম্বে সরে আসার আহবান জানান। অন্যথায় বক্তারা জনগনকে সাথে নিয়ে আবার ফুলবাড়িতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন