বরিশাল নিউজ
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

বরিশালের গৌরনদীতে মাদ্রাসার আবাসিক কক্ষ থেকে ১১ বছরের ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কাসেমাবাদ এলাকার মিফতাহুল জান্নাহ হিফজুল কুরআন মডেল মহিলা মাদ্রাসা থেকে সোমবার রাতে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন।
জান্নাতুল ফেরদাউস নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নালুয়া গ্রামের প্রবাসী মো. সান্টুর মেয়ে। সে ওই মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের আবাসিক ছাত্রী ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক জহুরুল ইসলাম আকনের কাসেমাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গত বছরের নভেম্বর মাসে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দক্ষিণ পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের মো. আবু ইউসুফ খন্দকার প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। বর্তমানে দুইজন নারী শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৫ জন ছাত্রী সেখানে আবাসিকভাবে অধ্যয়ন করছে।
তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ছাত্রীর মা সুর্বণা বলেন, তার স্বামী প্রবাসে থাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকেন। সোমবার বিকালে মেয়ে জান্নাতুলকে মাদ্রাসায় দিয়ে আসেন। রাতে তিনি শুনতে পান, মাদ্রাসার একটি কক্ষে জানালার সঙ্গে ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, সোমবার সন্ধ্যার পর একটি কক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষিকার সন্দেহ হয়। পরে তারা জানালার কাঁচ দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে পায়, ওই শিক্ষার্থী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে রয়েছে।
তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও দায়িত্বরত শিক্ষিকারা গিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে জান্নাতুলকে নিচে নামিয়ে মৃত অবস্থায় পান।
ওসি বলেন, তদন্তে যতটুকু জানতে পেরেছি, ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় আসতে চায়নি। তাকে জোর করে মাদ্রাসায় রেখে আসা হয়েছিল। এ কারণে সে রাগে ও ক্ষোভে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে নিহতের মা আরো বলেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. আবু ইউসুফ খন্দকার ও তার স্ত্রীকে দায়ী করেন।
নিহত শিশুটির মায়ের অভিযোগের ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ওসি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন